Posts

বৃদ্ধাশ্রম - লক্ষ্মী বিশ্বাস

Image
বৃদ্ধাশ্রম লক্ষ্মী বিশ্বাস বৃদ্ধর বয়েস ৬০,ছেলের ৩৫,আর নাতির বয়েস মাত্র ৫ , সংসারে বাবার গুরুত্বটা বোধহয় সত্যি ফুরিয়েছে।অবশেষে বাবার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমের এক কোণে।বৃদ্ধটি রোজ সকালে তার বিছানার ঠিক পাশের বিছানাটি সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতো।তার এই অদ্ভুত ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে শুধু মিট মিটিয়ে হাসতো।আর গুনগুনিয়ে বলতো,- "আমার ছেলে আসবে আমার কাছে।" তাই এই কথা শুনে আশ্রমের সবাই খিল খিলিয়ে হেসে উঠতো- "শোনো ভাই ,আমরা সবাই কুড়ি বছর থেকে এখানে আছি। কেউ আমাদের সাথে দেখা করতে আসে নি।" বৃদ্ধ প্রতিদিন বিকেলে আশ্রমের বাইরের রাস্তার দিকে এক মনে চেয়ে থাকতো।           এখন বৃদ্ধটির বয়েস ৮৫,ছেলের ৬০,বৃদ্ধর পাশের বিছানাটি তার ছেলের হয়েছে। বৃদ্ধর ছেলেও রোজ পাশের বিছানাটি সাজিয়ে পথ চেয়ে বসে থাকে।তার ছেলে তার সাথে দেখা করতে আসবে।

স্বপ্নভঙ্গ - সৌভিক দেবনাথ

Image
স্বপ্নভঙ্গ সৌভিক দেবনাথ  শুধু তুমি চাইলেই, শুধু তুমি চাইলেই একটা মধ্যবিত্ত প্রেমের গল্প হতে পারতো আমাদের। না হয় লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল কিংবা রোদেলা বিকেল, এসব কোনটাই নেই আমার নিয়ন্ত্রণে। তবে আমার একটা আমি আছে, একটা মধ্যবিত্ত-আমি, যে রোজ তিনবেলা তোমায় মন খুলে ভালোবাসতে পারতো, কিংবা একটা রজনীগন্ধার স্টিক হাতে তোমায় প্রেম নিবেদন করতে পারতো। ভালোবাসা জমাতে পারতো একটা লাল টকটকে শাড়িতে, কিংবা পাঁচ টাকার সিঁদুরের কৌটোয় আর বিশ টাকার আলতার শিশিতে। দু’জোড়া আশাবাদী চোখের পবিত্র জলের পবিত্র হাসিতে, যে তোমায় দিতে পারতো বসন্তরঙা একগুচ্ছ কৃষ্ণচূড়া। বিশ্বাস করো, শুধু তুমি চাইলেই আমাদের একটা মধ্যবিত্ত প্রেমের গল্প হতে পারতো। চোখে লেপ্টে থাকা কিছু স্বপ্ন নিয়ে না হয় এক ছাতার নিচে জড়াজড়ি করে হেঁটে যেতাম বৃষ্টিমাখা পথ। স্বপ্ন'? এই স্বপ্ন কেনা-বেচার বাজারেও আমি স্বপ্ন দেখেছি সারাক্ষণ, বিভোর হয়েছি অগণিত বার। কিন্তু তুমি বড্ড বেশি দামি, আর দামি স্বপ্ন দেখতে অনেক টাকা লাগে। আমার ময়লা টাকার নোনতা গন্ধ বার বার আমায় মনে করিয়ে দেয়, আমি একটা মধ্যবিত্ত! না হলে তো একদিন আমিও তোমার যত্নশীল প্রেমিক হতে চেয়েছিলা...

একুশ শতকের নারী - মনীষা ঘোষ

Image
একুশ শতকের নারী     মনীষা ঘোষ আজও নারীর কথায় থেকে যায় গোপনে, তবুও এই পৃথিবী আবদ্ধ মাতৃত্বের বন্ধনে। আজও নারী স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এই সমাজের বুকে, আজও নারীর মুক্তির কথা চাপা পড়ে আছে অতীতের কবরে। ভাগ্যের পরিহাসে নারী আজও পুরুষশাসিত সমাজের বাসিন্দা, একুশ শতকে এসে ও পুরুষ দিতে পারেনি সম্মান । জীবনের প্রতিটি বাঁকে জড়িয়ে থাকে নারী, তবুও কোথাও যেন নারীই পরাধীনতার শিকলে বাঁধা। হায়রে এ সমাজ শিকল ছিঁড়ে এবার তো দাও মুক্তি, এই পৃথিবীটাকে  যারা করেছে সৃষ্টি। 13/06/2021

সেদিন ও বৃষ্টি এসেছিল - পৌষালী সেনগুপ্ত

Image
সেদিন ও বৃষ্টি এসেছিল পৌষালী সেনগুপ্ত সেদিন, তোমাকে দেখার প্রথম দিন, হ্যাঁ সেদিন বর্ষা নেমেছিল! দু কুল ছাপিয়ে সেদিন বর্ষা নেমেছিল! তোমাকে জড়িয়ে সেদিন তোমার বুকের গন্ধ নিজের ঘ্রানে মিশিয়ে নিয়েছিলাম! তোমার না বলা কথাগুলো সেদিন আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছিল! সেদিন!  সেদিন বর্ষা নেমেছিল! তোমার বুকে মাথা রেখে সেদিন তোমাকে অনেক কাছ থেকে পেয়েছিলাম! সেদিন বর্ষা নেমেছিল! তোমার ভেজা ঠোঁট দুটো ছুঁয়ে সেদিন আমার উষ্ণ ঠোঁটদুটো সেদিন ছুঁয়েছিল! সেদিন বর্ষা নেমেছিল! তোমার আঙুলের পরশে বৃষ্টি ভেজা গাড়ির জলনার কাঁচে আমরা যখন দুজনে বাইরের জগৎটা দেখছিলাম সেদিন বর্ষা নেমেছিল! যেদিন তুমি আমাকে অর্ধাঙ্গিনী রূপে নিজের জীবনের সঙ্গী করে যেতে নিতে এসেছিলে, সেদিন বর্ষা নেমেছিল!

নীরব চিঠি - লক্ষ্মী বিশ্বাস

Image
নীরব চিঠি লক্ষ্মী বিশ্বাস যখন তুমি ক্লাস টেন আর আমি উচ্চ মাধ্যমিকের কাছাকাছি সদ্য কবিতা লিখতে শিখেছি  দু এক লাইন করে। তুমি ভালোবাসতে রবীন্দ্রনাথ আর আমি কাজীনজরুল রোমান্টিকের সাথে বিদ্রোহ বেশ জমে উঠতো আমাদের আড্ডা টিফিন টাইমে লাইব্রেরিতে। হ্যা তোমার রবীন্দ্রনাথের নষ্ট নীড়ের  আমি খুব ভক্ত ছিলাম। তোমাকে নিয়ে বিদ্রোহের ছন্দে একটা চিঠি লিখেছিলাম। চিঠি টা খামেই পরে রয়েছে। জীবনে কতো অনুভূতি আসে কতো অনুভূতি যায় সব যেন ওই নীরব চিঠির মতোই। লেখা হয় ঠিকই  তবে পৌঁছে দেওয়া হয়না সঠিক স্থানে।

কাদা মাখা পা- লক্ষ্মী বিশ্বাস

Image
কাদা মাখা পা লক্ষ্মী বিশ্বাস কাদা মাখা পা গুলো জানে বাস্তবতার আসল মানে। প্রতিনিয়ত করছে যুদ্ধ  এক মুঠো ভাতের প্রয়োজনে। ওদের পা দিয়ে করে  ভিজে মাটির গন্ধ তাই তো ওদের শুনতে হয়  কতো রকমের গালবন্ধ। বাস্তব কতো কঠিন ওরাই শুধু বোঝে। নানা কষ্ট, যন্ত্রণার মাঝে একটু খানি সুখ খোঁজে। সভ্য সমাজ দেয় না ঠাঁই তাই তো পরে থাকে  সমাজের এক কোণে। সারা শেষ শুদ্ধ লোক  ভুলে গেছে এই কাদা মাখা পা গুলোই কিন্তু ফসল বোনে।

কৃষ্ণ নামাবলীর পূজারী - সৌভিক দেবনাথ

Image
কৃষ্ণ নামাবলীর পূজারী       সৌভিক দেবনাথ হে মহাদেবী; তুমি স্বর্গীয়,তুমি অবিনশ্বর, স্বয়ং ঈশ্বর পার্শ্ববর্তী তোমার অবস্থান। তাই বলে কি এতো দম্ভ তোমার ? তোমার নিস্তব্ধতা দেখে আমি হতবিম্ব হই, তুমি স্বর্গীয় দেবী। হে দেবী, তবে স্বর্গীয় রাজসুখে  ভালো থেকো তুমি। তোমায় আর ভাববো না আমি স্বর্গীয় কোন রথ, আমি হারিয়ে গেলাম আজ থেকে নরকের দ্বারে। নতুন কোন পূজারীর স্পর্শে  তুমি নির্মাণ করো, তোমার চিরচেনা দেবালয়! আমি তবে রাত্রিপাতায়  খাগের কলমে লিখবো- চিরবিচ্ছেদ মন্ত্র! তুমি তো অভিষিক্ত কোন স্বর্গীয় দীঘির শুদ্ধ অভিষেকে, তারপর গায়ে জড়িয়ে নিচ্ছো, অন্য কোন পৌরহিত্যের নামাবলী।  তবে আমি কেন আজও পুড়বো নারকীয় দাবদাহে, কেনই বা বৃষ্টি নামাবো  অসুখ দীঘির কৃষ্ণ জলে? শত উপোষী পূজারীর হরতাল আজ, যতোই জ্বলুক বক্ষ আমার যজ্ঞানলে, মস্তিষ্কে যতোই উন্মাদনা করুক ঘূর্ণিপাক। ঝরুক চোখে অশ্রু বারি, ভিজবো না আর নোনতা জলে। ডুবে যাবো নরকের অগ্নিকোঠরে, চিত্রগুপ্তের খাতায় লেখাবো না হয় সর্বপ্রথম নাম, তবু অভিলাষ নেই আর,  তোমার পূজার রজনী গাঁথার। লক্ষ হাজার মাইল দূরে চলে যাবো, যাতে কান...