আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকা শ্রীরামপুর হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়।
এটি বাংলা এবং ইংরাজিতে প্রকাশিত হয়।
একটি আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্য পত্রিকা।
সব দেশের লেখক - লেখিকা বৃন্দের লেখা প্রকাশ হয়।
সম্পাদিকা :সোমা বিশ্বাস ।
স্বপ্নভঙ্গ সৌভিক দেবনাথ শুধু তুমি চাইলেই, শুধু তুমি চাইলেই একটা মধ্যবিত্ত প্রেমের গল্প হতে পারতো আমাদের। না হয় লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল কিংবা রোদেলা বিকেল, এসব কোনটাই নেই আমার নিয়ন্ত্রণে। তবে আমার একটা আমি আছে, একটা মধ্যবিত্ত-আমি, যে রোজ তিনবেলা তোমায় মন খুলে ভালোবাসতে পারতো, কিংবা একটা রজনীগন্ধার স্টিক হাতে তোমায় প্রেম নিবেদন করতে পারতো। ভালোবাসা জমাতে পারতো একটা লাল টকটকে শাড়িতে, কিংবা পাঁচ টাকার সিঁদুরের কৌটোয় আর বিশ টাকার আলতার শিশিতে। দু’জোড়া আশাবাদী চোখের পবিত্র জলের পবিত্র হাসিতে, যে তোমায় দিতে পারতো বসন্তরঙা একগুচ্ছ কৃষ্ণচূড়া। বিশ্বাস করো, শুধু তুমি চাইলেই আমাদের একটা মধ্যবিত্ত প্রেমের গল্প হতে পারতো। চোখে লেপ্টে থাকা কিছু স্বপ্ন নিয়ে না হয় এক ছাতার নিচে জড়াজড়ি করে হেঁটে যেতাম বৃষ্টিমাখা পথ। স্বপ্ন'? এই স্বপ্ন কেনা-বেচার বাজারেও আমি স্বপ্ন দেখেছি সারাক্ষণ, বিভোর হয়েছি অগণিত বার। কিন্তু তুমি বড্ড বেশি দামি, আর দামি স্বপ্ন দেখতে অনেক টাকা লাগে। আমার ময়লা টাকার নোনতা গন্ধ বার বার আমায় মনে করিয়ে দেয়, আমি একটা মধ্যবিত্ত! না হলে তো একদিন আমিও তোমার যত্নশীল প্রেমিক হতে চেয়েছিলা...
মাটির শহর সৌভিক দেবনাথ আমি হেঁটে চলেছি পিচ ঢালা সাদা কালো ফুটপাতে, দুধারে ছোট-বড় কংক্রিটের অন্ধকার শহরে। হঠাৎ পায়ের তলার ফুটপাত সুতীক্ষ্ণ চিৎকার করে ওঠে_ থামাও-আমাকে থামাও, নইলে আমার বুক চিরে বেড়িয়ে পড়বে শত শত নরমুন্ড, শত শের ওজনের কালো চাকার ভাড় সহ্য করতে পারবে না ঘর হীনা পাখিরা। শত শত কালো কালো মুষ্টিবদ্ধ হাত_ ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে হাই ড্রেনের স্ল্যাবের উপর বেঁচে থাকা শুষ্ক স্বপ্নগুলো, তারপর গড়ে তুলেছে একটা অন্ধকার শহর। চাঁদের আলোয় শহরের কালো মেঘ গুলো ছুটে চলেছে রক্ত চোষার নেশায়। একদিন সব আলো নিভে যাবে, থাকবে না কোন বিদীর্ণ কোলাহল, চারিদিকে শুধু স্তব্ধতা আর স্তব্ধতা! অবিরাম ছুটে চলা পদ যুগল, একেবারে নিস্তেজ! আর রুক্ষ শরীর গুলো পিঁপড়ের মতো নিজের কবর নিজেই খুঁড়বে। চারদিকে শুধু মাটি আর মাটি, মাটির তলায় বসে দেখবে নিজের পাপ।
অনুগ্রহ সৌভিক দেবনাথ ধর্মের তরবারির ফলার শীর্ষে থাকা এই লাল রঙ্গা দেশে, আজ আর কোন অভিযোগ নেই আমার। চাওয়া শুধু একটাই _ এই ক্লান্ত শরীরে জমতে থাকা কিছু ঘামের ফোঁটা, আর পায়ের ফাটা গোড়ালীতে খুঁজে নিও কিছু শুকানো রক্তের দাগ। যদি খুঁজে পাও, বুঝে নিও- সারাদিন ধরে খুব করে চষেছি তোমার মাটি। রাজপথে রঙিন পোশাকের মোড়কে ঢাকা যন্ত্রের মাঝেও, আজ বড় প্রয়োজন একটা শান্তির ছায়া। তাই সভ্যতার বুক চিরে একা একা পথ হেঁটে চলেছি! সু-বিস্তীর্ণ ফুটপাতের আয়নায়, দেখেছি নরকঙ্কালের মুখ, গুনেছি মৃত্যুর মিছিলে ছড়িয়ে থাকা কাটা রক্তাক্ত নরমুন্ড। মনুষ্যত্ব তো কবেই চাপা পড়েছে ধর্মের ভাড়ে। আর পেটের জ্বালা? সেতো বহু পুরনো অসুখ! যে জ্বালা গোপনীয়তায় বারবার মেলতে চেয়েছি মহাশূন্যে, আর মিথ্যে ধর্মে করজোড়ে কৃপা ভিক্ষা করেছি দুই হাত তুলে। যেদিন ত্বকের লোমকূপে জেগেছিলো ভাতের ফ্যান, অপূর্ব শহরের অট্টালিকারা সেদিন সেজেছিলো অগ্নিসারে। তবুও প্রার্থনা ছিল দুই মুঠো ভাতের। না না!ভয় নেই। শত নির্যাতনের পরেও কোনদিন কাঁদতে দেখবে না আমায়। শুধু রাত নামলে দু-মুঠো ভাত দিও। এই দেখো, দুই হাত আমার ...
Comments
Post a Comment