আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকা - বিশ্ববঙ্গ বাংলা সাহিত্য একাদেমী অনুমোদিত - Registration number - (BBSA/GM/132/2021) - আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকার ওয়েব ম্যাগাজিন সংখ্যা - চতুর্থ সংখ্যা - কাব্যগ্রন্থ সংখ্যা
আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকা
বিশ্ববঙ্গ বাংলা সাহিত্য একাদেমী অনুমোদিত
Registration number - (BBSA/GM/132/2021)
আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকার ওয়েব ম্যাগাজিন সংখ্যা
চতুর্থ সংখ্যা - কাব্যগ্রন্থ সংখ্যা
আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকার
প্রকাশ তারিখ - ১ অক্টোবর ২০২১প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদিকা: সোমা বিশ্বাস
উপদেষ্টা : সোমনাথ নাগ, তপন কুমার তপু
প্রচ্ছদ : কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
সম্পাদকীয় :
আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকার ওয়েব ম্যাগাজিন সংখ্যা প্রকাশিত হলো। সকল কবি ও সাহিত্যিক ও পাঠক-পাঠিকা বন্ধুকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
- সোমা বিশ্বাস
লেখা পাঠানোর ঠিকানা - aalordishasahityapotrika@gmail.com
ওয়েবসাইট - aalordishasahityapotrika.blogspot.com
লেখার দায় লেখকের, সম্পাদকের নহে।
কবি-তালিকা :
১) কবি অরবিন্দ সরকার - পেখম
২) কবি বারীদ বরণ গুপ্ত - আমার আর্তনাদ
৩) কবি বিপ্লব সরকার - আমি-প্রেম-ঈশ্বর
৪) কবি সৌরভ পাত্র - ব্লগ ম্যাগাজিন
৫) কবি সজল মন্ডল - মনের কল্পনা খাতার পাতায়
৬) কবি অসীম সরকার - দশটি কবিতা
৭) কবি চঞ্চল কুমার দাস - ব্লগ ম্যাগাজিন
৮) কবি শান্তি রঞ্জন দে - ফিরে আসুক ছেলেবেলা
৯) কবি প্রশান্ত মন্ডল - মনের কাব্য
১০) কবি নবীন মন্ডল - ব্লগ ম্যাগাজিন
১১) কবি মৌসুমী মুখার্জী - অনুভূতির কলমে
১২) কবি রূপালী সাহা - দুটি কবিতা
১৩) কবি শুভশ্রী দাস - প্রেম
১৪) কবি অভিজিৎ বেজ - দুটি কবিতা
১৫) কবি শাশ্বতী দেব - দুটি কবিতা
১৬) কবি মাজহারুল ইসলাম - প্রদীপের কালো আলো
১৬) কবি সোমা বিশ্বাস - রিক্ত হৃদয়ের আর্তনাদ
কবিতা :
প্রথম কবি ও কবিতা :
কবি অরবিন্দ সরকার
কাব্যগ্রন্থ - পেখম
কবি - পরিচিতি :
(লেখকের আত্মজীবনী নথিভুক্ত নম্বর :- 18)
লেখকের নাম :- অরবিন্দ সরকার
অ থেকে হ পর্যন্ত অক্ষর দিয়ে আদ্যাক্ষর কবিতামালার স্রষ্টা। কবিতা, রম্যরচনা, ভ্রমনকাহিনী, প্রবন্ধ ও গল্প লেখক।
জন্ম তারিখ :- 1 মে 1955 সালে।
বর্তমান ঠিকানা :- ৯৫,এ,সি,রোড,( ইস্ট)
ডাকঘর- খাগড়া, বহরমপুর মুর্শিদাবাদ।
পিন্ কোড্-৭৪২১০৩ পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
বাবা - স্বর্গীয় অশ্বিনী সরকার ।
মা- স্বর্গীয়া মহামায়া সরকার।
জন্মস্থান/আগের ঠিকানা- গ্রাম- ভাটরা, ডাকঘর- বাগোড়, থানা - কান্দি, জেলা- মুর্শিদাবাদ।
জন্ম -১৯৫৫ খ্রীস্টাব্দের পয়লা মে, মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থানার ভাটরা গ্রামের এক
উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই ও এক বোন।সকলেই শিক্ষক। ছেলেবেলা থেকেই সঙ্গীত ও আবৃত্তিতে পারদর্শী।
পড়াশোনা বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা- বি,এ,বি,এড, তারপর শিক্ষকতা - রাজখণ্ড হাইস্কুলে। অর্গানাইজ উনিশশো উনআশি থেকে। সরকারী স্বীকৃতি উনিশশো উননব্বই সালে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। লেখা লেখিতে স্বভাবজাত কবি। গল্প, কবিতা, রম্যরচনা, ভ্রমনকাহিনী, প্রবন্ধ লেখালেখির রচনা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের সাহিত্য প্রেমিকদের সম্মানিত সহস্রাধিক শংসাপত্র, লেখকের হস্তগত।
অ থেকে হ অক্ষর দিয়ে আদ্যাক্ষর কবিতা সংগ্রহ নামে, প্রকাশিত। এটার স্রষ্টা কবি।এ পর্যন্ত কোনো কবির এ বিষয়ে লেখা নেই। এছাড়া সনেটগুচ্ছ কবিতার বই , উড়ান কবিতার বই,ও রম্যরচনা সংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে।ছোট গল্পের একক বই প্রকাশনার পথে।বর্তমানে দৈহিক অকর্মণ্যদের তালিকায় একজন স্পন্ডিলাইটিস রোগী। শুয়ে শুয়ে মোবাইলে লেখালেখি করেন। একসময়ে জেলায় আবৃত্তি ও বিতর্কের বিচারকের ভূমিকা পালন।
১) "গেঁয়ো দুগ্গা"
-- অরবিন্দ সরকার
শহরের চাকচিক্যে দুর্গা ঝালাপালা,
প্যাণ্ডেলে আধুনিকতা আলো ছড়াছড়ি,
আমার গেঁয়ো দুগ্গার স্থান আটচালা,
শহরে চমকপ্রদ রংমশাল দড়ি।
গেঁয়ো দুগ্গা ছেঁড়া শাড়ী গড়নে শ্যামলা,
ইচ্ছেটা শহরপানে নিয়ে টাকাকড়ি,
মনোহারী কেনাকাটা সেরে একবেলা,
ছেঁড়া শাড়ী পটি মেরে চটি পায়ে ঘুরি।
গেঁয়ো দুগ্গা দিলো পাড়ি শহরে একেলা,
দুর্গা দর্শনে প্রণাম দেয় গড়াগড়ি,
প্রসাদ সকলে দেয় ভরে তার ঝোলা,
সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা মন তার ভারী।
মাটির প্রলেপ ঢেকে দুগ্গার আকৃতি,
ভাসানে জীবন খাঁচা নির্মম প্রকৃতি।
২)
"কবিতা'
-- অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ।
কবিতা লিখি কলমে হয় ভয়ঙ্কর,
শোষকের অত্যাচার নির্মম প্রহার,
অনেক কবিতা লেখা হয় শুভঙ্কর,
কলম তর্জনী তুলে দেয় হুঁশিয়ার।
ছন্দ লয়ে তালে লিপি দুষ্টুমি অক্ষর,
কারোপিঠে,কোলেচেপে,নাহি মানে হার,
অন্যায় চাবুকে রুখে ভাষা নিরন্তর,
সুজনের বন্ধু সে যে দুর্জনের ভার।
প্রেম পাখি নদী বন মনেতে নির্ভর,
আকাশ বাতাস সনে বনিবনা তার,
মুক্তাকাশে মুক্তলিপি ঝলকানি গড়,
কলমের বরিষনে সুপ্তপারাবার।
কবির সনে কলম হরিহর আত্মা,
কবির মৃত্যু হয়না কবিতা নির্মাতা।
৩)
,
"দক্ষযজ্ঞ"
- অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ।
গাঁজা,ভাঙ্ সোমরসে,আসক্তি শ্রীভোলা,
পাহাড়,পর্বতে মর্ত্যে সর্বত্র পূজিত,
ছাইভশ্ম মেখে গায়ে পরিধানে ছালা,
কঙ্খলের দক্ষরাজ যজ্ঞে নিমজ্জিত।
শিবহীন যজ্ঞে উমা অস্বস্তি উতলা,
স্বামী নিন্দা কর্ণশ্রুতি দেহ অন্তর্হিত,
ডমরু বাজায়ে ভোলা ঢোকে যজ্ঞশালা,
লণ্ডভণ্ড করি সব ভস্মে ঢালি ঘৃত।
স্কন্ধে তুলে রমলাকে শুরু নৃত্য খেলা,
ভূমিকম্প লম্ফঝম্ফে স্বর্গমর্ত্য ভীত,
সৃষ্টি স্থিতির বিনাশে রব পালা পালা,
বিষ্ণুচক্রে সতীদেহ বহু স্থানে চ্যুত।
সতীদেহ ছিন্নভিন্ন চতুর্দিকে প'ড়ে ,
সেইস্হানে মহাপীঠ পূণ্য তোয়া শিরে।
৪)
"লড়াই সর্বত্র"
-- অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ
দেবদেবীর লড়াই অসুরের সাথ,
স্বর্গের অপ্সরী,গদি, -নিয়ে ভাগাভাগি,
মানব দানব সঙ্গে মর্ত্যে একহাত,
সংসার লড়াইয়ে হার, তিনি গৃহত্যাগী।
ক্ষেপণাস্ত্র, রকেটের যুদ্ধ শূন্যে মাত,
ডুবোজাহাজ লড়াই জলসীমা দাগী,
পুলিশ চোরের যুদ্ধ গোপনে বেহাত,
রাজা প্রজা মোলাকাত, দুয়ারে লাগি।
পিতা পুত্র রেষারেষি বৃদ্ধাশ্রমে কাত,
শাসকের শোষনের মাত্রায় বিবাগী,
গরীবের গরীবীতে দুই মুঠো ভাত,
সাপে নেউলে বিবাদ ভয়ানক রাগী।
বর্নবৈষম্যে লড়াই রঙ্ জাতপাত,
ভৌগোলিক সীমারেখা ডিঙিয়ে সাক্ষাত।
৫)
"বিদায় বেলা"
-- অরবিন্দ সরকার।
যেদিন রবোনা আমি নীরব লেখনি,
ভাষা হারিয়ে সে তার বুকে নিয়ে ব্যথা,
দাবীর মিছিলে ল'ড়ে লেখে তার বানী,
অবিচার অন্যায়ের হুঁশিয়ারি কথা।
শাসকের শোষনের অন্যায় বিপণি,
গরীবের হাহাকার গুজিবার মাথা,
খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থান সম্মানে রমণী,
শূণ্যতা পূরণ হবে ধন্য লোক গাঁথা।
কবির সঙ্গে কলম যেন তার রাণী,
তার সঙ্গে ভালোবাসা সদা যথাতথা,
অত্যাচারীর বিরুদ্ধে কলমে তর্জনী,
স্বাধীনচেতা কলম উপস্থিত সেথা।
কবিকে সমীহ করে, শিক্ষিত সমাজ,
দলদাস নয় এরা কলমপেশা কাজ।
৬)
"মন্থরার কূটচালে"
-- অরবিন্দ সরকার।
মন্থরার এক কোপে বামের বিদায়,
মসনদে অভিষেক হল তার মন,
লড়াই, মিছিল, বন্ধ্ রব হায় হায়,
হাজির দুয়ারে সব মুখে যতক্ষণ।
ভাঙাচোরা, জীর্ণশীর্ণ, প্রলেপ সাদায়,
নীল আকাশে শূণ্যতা, কানার জীবন,
মতিগতি বোঝা দায় তৃণ মরুপ্রায়,
অনুদানে কর্মহীন সব চুরি ধন।
টাকায় বাঘের দুধ থাকলে মিলায়,
মিথ্যা রব বারে বারে দিলে সযতন,
সাঙ্গোপাঙ্গো রটনায় মেটে অভিপ্রায়,
চোররাজ সাধু আজ! সঙ্গী বিদ্বজ্জন।
ভিক্ষার ঝুলিতে ভিখ্,মিললে ভিখারী,
ন'লে নেমকহারাম, বদল দেউরী।
৭)
" আগমনী বার্তা"
-- অরবিন্দ সরকার।
ভোরের আজান ধ্বণি ভেঙে যায় ঘুম,
বীরুপাক্ষ মহালয়া বাঙালির মনে,
আকাশ বাতাস কাঁপে প্রকৃতি নিঝুম,
পাখীসব করে রব যে যার আসনে।
শঙ্খধ্বনি স্তোত্র পাঠে, জেগে ওঠে ভূম,
দেবীর প্রবেশ মর্ত্যে আগমনী গানে,
সপরিবারে মেনকা আনন্দের ধূম,
আলোমাখা বসুন্ধরা নতুন বসনে।
শেফালী,কমল,কাশে জাগে মরশুম,
অসুর বিনাশে দুর্গা ধরাধাম পানে,
ধেয়ে আসে সমতলে, ভালে কুমকুম,
চতুর্দিকে সাজোরব হিন্দোল কাননে।
তরবারি হাতে নিয়ে অসুর বিনাশে,
শান্তির আশিস মাগি নমি মুক্তাকাশে।
৮)
,
"পটের গান"
-- অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ।
তোমার মূর্তি তৈয়ার দলা ঘাঁটাঘাঁটি,
খড়কুটো আস্তরন আমার মতন,
সামনে চিক্কন খুব পিছে বাঁশ কাঠি,
চারদিকে মহাধূম সাজায়ে যতন।
তোমার স্থান মন্দিরে আমার মা খাঁটি,
চারদিনের মা তুমি ভাসানে পতন,
ঝলমল আলোমাঝে লক্ষ টাকা মাটি,
আলোর ছায়ার পিছে মোর আবরণ।
তব মাতা বৃদ্ধাশ্রমে, যত্নে তাঁর ভাটি,
মাটির মূর্তিতে মালা ভোগ বিতরণ,
দীনের মা'র একান্ন পুত্র তার লাঠি,
গরীবের দূর থেকে প্রতিমা দর্শন।
বাঙালীর শ্রেষ্ঠ পূজা চাঁদার জুলুম,
মাস্তানির আস্ফালনে, কেড়ে নেয় ঘুম।
৯)
২৪/০৯/২০২১
"তরজা"
-- অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ।
আমি পরেছি খোদার কহরে -
কোনো কিছু বলতে গেলে-
আবার গিন্নি মশায় নেয় তেড়ে।
যদি বলি ভালো কথা, দাঁত খিঁচিয়ে দেয় যথাতথা।
(আমায়) বলে আস্তগাধা , দেবো বাড়ি থেকে দূর ক'রে।
আজকাল স্ত্রী লোকের রাজ্য,
মান্যগন্য সর্বপূজ্য, স্বামীকে করে ত্যাজ্য,বেড়ায় ঘুরে স্বেচ্ছাচারে।
(স্ত্রীবলে) পার্টিতে যাচ্ছি আমি,
খোকা কোলে নিয়ে থাক তুমি।
টলতে টলতে মনমোহিনী ,
আসে ফিরে রাত্রি ভোরে।
(আমি) খেটে খুটে ফিরছি বাড়ি,
হ'ল তখন হুকুমজারী ,
উনুনে ফাটছে হাঁড়ি,
জল আনো শীঘ্র করে --!
কষ্ট করে আনলাম জল,
পেটে তখন জ্বলে অনল,
(বলে)- ছেলেয় ত্যাগ করেছে মল,
আন তারে শৌচ করে--!
শান্ত হতে বল্লে পরে,
রক্ত চক্ষু বের করে,
মুড়ো ঝাঁটা উঁচিয়ে ধরে,
(বলে) মিনসেকে আজ দেবো সেরে।
পরেছি খোদার কহরে----!!
১০)
২৫/০৯/২০২১
"কাবুলীওয়ালা"
-- অরবিন্দ সরকার
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ।
সুদূর কাবুল থেকে কাবুলিওয়ালা,
পেস্তা আখরোট নিয়ে ব্যবসা বানিজ্য,
লম্বা সুদর্শন দেহ গায়ে আলখাল্লা,
দাদনে খাটায় টাকা রাজ্য থেকে রাজ্য।
খাইবার গিরিপথে এদেশে একেলা,
কেউ মিশে ভালোবেসে, নয় পরিত্যাজ্য,
স্ত্রী পুত্র তনয়া ফেলে নয়কো উতলা,
সুদে আসলে পয়সা পূঁজি হয় পূজ্য।
কটিবন্ধে যত্নে ধন রাখে সববেলা,
রোজগারের পয়সা হিসেবে বিভাজ্য,
ধারবাকী পরিশোধে ঘরে ফেরা পালা,
হিমালয়ের ওধারে গমাগম ন্যায্য।
রবীঠাকুরের কাব্যে ভালোমানুষ এরা,
স্বার্থের দাসত্বে ভাবে গরীবেরা ভেড়া।
দ্বিতীয় কবি ও কবিতা :
কবি বারীদ বরণ গুপ্ত
কাব্যগ্রন্থ : আমার আর্তনাদ
কবি-পরিচিতি :
পূর্ব বর্ধমান জেলা মন্তেশ্বর ব্লকের সাহাপুর গ্রামে ১৯৬৫ সালে কবি জন্মগ্রহণ করেন, শিক্ষাবিদ কবি প্রাবন্ধিক,
বর্ধমান জেলার লোকসমাজ, লৌকিক সাহিত্য, এবং সমাজ সংস্কৃতির গবেষণামূলক প্রবন্ধ লেখালেখিতে যুক্ত।
কবিতা :
১)
আতঙ্ক
বারিদবরণ গুপ্ত
মাঝে মাঝে আতঙ্ক উড়ে আসে
ঝড়ো বাতাসে !
একটা নীড়হারা পাখি
চিৎকার করে উড়ে যায়,
উদভ্রান্তের দৌড় !
ঠিকানাহীন পথে ঠিকানা খুঁজে
বিভ্রান্তে আকাশটাকে জাপ্টে ধরে
ঘন ঘন নিঃশ্বাস ছাড়ে!
খরকুটো নিয়ে বাঁচার শেষ ইচ্ছা!
হয়তো হারিয়ে যাবে !
হারিয়ে যাবে চিরতরে,
তবুও বাঁচতে চায়!
জীবনটা খুঁজতে চায়।
২)
যদি গোটা পৃথিবীটা চলে যায়
বারিদবরণ গুপ্ত
যদি গোটা পৃথিবীটা চলে যায়
যাক!
যদি সব আলো নিভে যায়
যাক!
তবুও একটা তারার খোঁজে
আমি জাগবো হাজার রাত!
ঠিক পেয়ে যাবো একদিন
পথ দেখাবে আমায়
নিরন্ন মানুষের মিছিলে,
আমার কাব্যের ভাষা হবে
জাগাবে নেতিয়ে পড়া জীবন!
পৃথিবী আবার জেগে উঠবে
পাখির গানে
নতুন ভোরের আগমনে!!
৩)
পৃথিবীর ইতিহাস
বারিদবরণ গুপ্ত
পৃথিবীর ইতিহাস আমি জানি!
কোন কিছু স্থায়ী নয়,
সৃষ্টি ও ধ্বংসের মাঝে
আছে শুধু রূপান্তর ।
শুধুই ঘুরে ফিরে আসে
অর্থ প্রেম প্রীতি ভালোবাসা !
কালের গ্রাসে জীবনতরী ছুটে চলে
অনন্তের পথে!
পৃথিবীর ইতিহাস অদ্ভুত
বৈপরীত্যে ছুটে চলে
কোথাও কাঁদে কোথাও হাসে
সৃষ্টি আর ধ্বংসের মাঝেই
পৃথিবী বাঁচে!
৪)
প্রাণহীন পৃথিবী
বারিদবরণ গুপ্ত
প্রাণহীন পৃথিবীটা যেন ক্ষুধার্ত হায়না
দিনেদুপুরে জঙ্গলের দাপাদাপি
ঊর্ধ্বশ্বাসে জান-প্রাণ নিয়ে ছোটাছুটি
চারিদিকে চিৎকার!
বাঁচাও ! বাঁচাও !
শূন্য আকাশে উড়ে যায় শেষ চিৎকার।
এক সময় দৌড় শেষ হয়,
রক্ত মাংস নিমেষে উঁড়ে যায়
পড়ে থাকে হাড়-পাঁজর
আর কটু গন্ধ!
৫)
আদর্শ আছে আদর্শ নেই
বারিদবরণ গুপ্ত
বর্তমান সমাজে আদর্শ বেঁচে নেই
আপনি বলবেন জানি!
আমি শুনবো না!
আদর্শ ছিল,আছে-থাকবে!
যুগ-যুগান্ত
আদর্শ ঘুরেফিরে আসে
ফাঁকা ঘরে!
এ সমাজ তাকে চায় না!,
রেখেছে বন্দি করে
হয়তো কোন কংসের কারাগারে!!
তৃতীয় কবি ও কবিতা :
কবি বিপ্লব সরকার
কাব্যগ্রন্থ : আমি-প্রেম-ঈশ্বর
কবি পরিচিতি :
কবির নাম -বিপ্লব সরকার
পিতার নাম -যাদব চন্দ্র সরকার
মাতার নাম -অপরাজিতা সরকার
বর্তমান ঠিকানা - গ্রাম+পোঃ+থানা - আনন্দপুর;
ব্লক কেশপুর; জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর;
রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ ;পিন -৭২১১২২
জন্মস্থান -মেদিনীপুর
জন্মতারিখ - ০৯/০৯/১৯৮৩
শিক্ষাগত যোগ্যতা - স্নাতকোত্তর (পদার্থবিদ্যা)
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ -নেই
সম্পাদিত পত্রিকা -নেই
পুরস্কার -নেই
কবিতা :
১)
ভালোবাসায় বেঁচে আছি
বিপ্লব সরকার
নিজের সঙ্গে দেখা হয় না এখন একদম,
খবর নিইনি অনেকদিন -কেমন আছি!
দিনগুলো কাটছে কেমন? শরীর ভালো?
আমি যেনো সেই অদৃশ্য এক ঈশ্বর কনা,
ভর যোগান দিতে দিতে নিজের দিকে
তাকিয়ে দেখি -কখন যেন নি'র্ভর হয়ে গেছি।
মাঝবয়সেই জরাজীর্ণ পৃথিবীর মত
নিজের হাতে চিতা সাজাচ্ছি নিজের।
একদিন একলা দেখা হয় নিজের সঙ্গে।
ভরা নদীর ভরন্ত যৌবনের উপকুলে
সুর্যসম্ভব ভোর; তাকাই নিজের দিকে,
অনুভব করি জলডোবা কবিতারা সব
তাকিয়ে আছে অপলক প্রেমে, ঈশ্বরের মত;
একটা পাখীর শীষ, এক টুকরো বাতাস,
এই আমার পৃথিবী ; ভালোবাসি ভালোবাসি।
ভালোবাসাতেই বেঁচে আছে ম্রিয়মান পৃথিবী,
ভরহীন আমিও বেঁচে আছি পৃথিবীর প্রেমে।
*********
২)
আমি ও আমার ঈশ্বর
বিপ্লব সরকার
আমার ঈশ্বর আমার বাড়ীতেই আছে
আমার সঙ্গে সবসময়; হৃদয়ের রক্তসন্ধ্যায়
লোডশেডিং হয়ে কাছে বসে, সান্ত্বনা হয়ে,
নিজের অনুভবে তাকে পাই কৃষ্ণাভ আঁধারে;
জোৎস্না রাতের সর্পিল নির্জনতায় বাকহীন
আঁকাবাঁকা পিচঢালা রাস্তায় এলোমেলো হাঁটি ;
পাতাঝরা বনে হলুদ পাতা খসে পড়ে নিঃশব্দে,
'কাল কি হবে ' র- ভাবনায় সে আসে
ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে ; রাতপাতা ভোরে;
বড্ড ভালোবাসতে ইচ্ছে করে নিজেকে-
আমার ঈশ্বর -আমার সত্বা এই আমিকে।
*********
৩)
পৃথিবীর লাশ
বিপ্লব সরকার
একদিন পৃথিবীর লাশ ভেসে যাবে,
শূন্যতার আকাশছোঁয়া ঢেউ অপেক্ষায়-
মহাদিগন্তে বিলীন, গাছের ডালে বসা
শেষ পাখিটির শীষ। কবিতারা কবেকার
কথা মনে করে শেষকৃত্যে পিন্ডি দেবে;
পাশবিক রাজদন্ড , চন্দ্রবিন্দু হয়ে-
সৎকারের সারিতে; তোমার হিংস্রতা
অন্ধকারে নিশ্চুপ, ক্ষমা নেই ক্ষমা নেই!
এসো কৃষ্ণ-
আর একবার পৃথিবীর গর্ভ চিরে ,শেষবার;
প্রেম নেই পৃথিবী কে প্রেম দাও একফোঁটা।
সব চলে যাক; যুগ যুগ জেগে থাক প্রেম
তারা হয়ে তারাদের দেশে। পৃথিবীর লাশ
ভেসে যাক যাক যাক, প্রেম জেগে থাক
অচঞ্চল নক্ষত্র হয়ে তারাদের দেশে।
********
৪)
আমি ঈশ্বর
বিপ্লব সরকার
ভেবেছিলাম,ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নেব,
সন্ধ্যাবেলায় পূর্নিমার চাঁদ আগুনের মত,
খাবার গুলোকে মনে হল বিস্বাদ;
মাথাজুড়ে কিলবিলে পোকাদের মিছিল,
শাস্তি চাই। কঠোর নিষ্ঠুর প্রতিশোধ।
একটা নিখুত পরিকল্পনা দরকার ছিল;
আবছা থেকে স্পষ্ট হচ্ছিল কাহিনীটা।
ঘুমনেই চোখে অগাধ আত্মবিশ্বাস ,
একটানা ঝিঁঝিঁ ; সাজানো হল গল্পটা।
এবার কাজে নামার সময়; দৃঢ় বদ্ধ চোয়াল;
অপেক্ষা, এক ঝরা বকুলের সকালের ...
নির্ঘুম রাতের শেষ প্রহর-
বনের শেষে, দুর পাহাড়ে আবছা আলো,
পৌরানিক অতীত জাগে বনের অন্তরালে ,
অগ্নিশুদ্ধ বৈদিক শিশুদের সামগান,
বনের পথে- উত্তরনের স্তোত্রম।
সময়ের বাঁকে আটকে থাকা অতীত
আলোর কনায় ভেসে আসে, চোখ মুদে ফেলি -
রাজগৃহ-আম্রপালী-করুনাঘন দুই চোখ ক্ষমাশীল।
অন্তরগুম্ফা থেকে বেজে উঠল -"ধর্মং শরনং গচ্ছামি"
ক্ষমা করে দিলাম সবাইকে; নিজেকেও;
নিজেকে মনে হল ঈশ্বর....
*********
৫)
পরিব্রাজক
বিপ্লব সরকার
নিজের সঙ্গে দেখা করার জন্য অনেকটা পথ হাঁটছি,
চায়ের দোকানে,দেহাতি কত আত্মভোলা মানুষ;
ক্ষুধার রাজ্যে ডাগর চোখের একরাশ শিশুআর্তি ,
রাত্রির গন্ধমাখা রাতবালিকা কলঙ্কশয্যায় নির্ঘুম।
ধূসর চাঁদের আলোয় ,ওদের মাঝে নিজেকে খুঁজেছি -
শারদসন্ধ্যায় বস্ত্রবিতরন, বস্ত্রহরন রাত গভীরে -
এই আমি বহুরূপে সবখানে হাজির ,রূপে -অরূপে
নিঃসঙ্গ ভবঘুরের ঘুমন্ত মাছিওড়া নিশ্চিন্ত মুখ-
যেন ভগবান স্বয়ং -সর্বংসহা ;পরিব্রাজক আমি
নিজের সঙ্গে দেখা করার জন্য হেঁটে চলেছি পথ...
চতুর্থ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি সৌরভ পাত্র
সিরিজ : ব্লগ ম্যাগাজিন
কবি-পরিচিতি :
কবির নাম-সৌরভ পাত্র
পিতার নাম-হরেকৃষ্ণ পাত্র
মাতার নাম-সুদেবী পাত্র
বর্তমান ঠিকানা-ভাঙ্গাহার,মশানঝাড়,খাতড়া,বাঁকুড়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত,722121
জন্মস্থান-নিজ গ্রাম ভাঙ্গাহার
জন্ম তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮
শিক্ষাগত যোগ্যতা-স্নাতক(বাংলা),বি এড, স্নাতকোত্তর পাঠরত।
কবিতা :
১)
উক্তি
সৌরভ পাত্র
এমন কোনো নেবে না ভাগ,
যাতে না লাগে কলঙ্কের দাগ।
এমন কোনো করবে না ভোগ,
যাতে না হয় মনের রোগ।
এমন কোনো করবে না আদেশ,
যাতে নষ্ট না হয় তোমার আবেশ।
২)
বহিষ্কার
সৌরভ পাত্র
স্থান নেই আর
নিজের বাড়ির ভিতর;
কি এমন করেছি পাপ?
এই নিয়ে বারংবার করছি মনস্তাপ!
শত বার করলে তিরস্কার
বিনা দোষে পেলাম পুরস্কার;
এটাই যদি চেয়েছিলে
তবে কেন একদিন হাত বাড়ালে?
পঞ্চম কবির কবিতা ও কবি-পরিচিতি :
কবি সজল মন্ডল
সিরিজ : মনের কল্পনা খাতার পাতায়
কবি-পরিচিতি :
সজল মণ্ডল
অতুল কৃষ্ণ মণ্ডল
জন্ম তারিখ:06/04/1990
শিক্ষা:M.A (বাংলা) কল্যাণী ইউনিভার্সিটি
বর্তমান: NIOS 12PASS করে ফার্মেসী স্টুডেন্টস ।
বর্তমান বাসস্থান : দীঘা, উত্তর চব্বিশ পরগনা
BRAINWARE UNIVERSITY
স্কুল: চাঁদপাড়া বাণী বিদ্যাবিথি (HS)।
COLLEGE: GOBARDANGA HINDU COLLEGE
কবিতা :
১)
আসছে মা
সজল মণ্ডল
ঘুম থেকে জেগে উঠে
মুখে দিতেই চা-
সংবাদ পত্রে বড় করে লেখা
আসছে আমাদের "মা"-
বিগত একটা বছর পরে
ভালোবাসা স্নেহ মমতা নিয়ে
মিলনের মিল বন্ধনে
একটি সুতোর মালা গেথে
মিলন আমরা সকলের তরে
ভেদাভেদ সব-ই ভুলে
একসাথে পায়ে পায়ে
দেখব আমরা মাটির প্রতিমা
তাই আনন্দে উঠছে বুকটা ভরে
মায়ের আগমনে -
সুন্দর হোক মা তোমার আগমন
সজল নয়নে করছি বরণ
ঠাই যেন পাই মা-
তোমার ঐ রাঙা চরণে।।
২)
জীবন যাত্রা
সজল মণ্ডল
ঘড়ির কাঁটা ঘুরে চলে
সময়ের-ই তালে
দিন-রাত্রি আলো- আঁধার
একই নিয়মে চলে
সময়ের মূল্য যে বোঝে
সেই চলমান
যার আছে স্বাস্থ্য শরীর
সেই বলবান
জীবনটা এক সূর্য্য উদয়
শেষ হয় অন্ধকার
ভোর প্রভাতে আবার ফেরে
নিয়ে আলোর রাশি
প্রেম - প্রীতির বন্ধনে আমরা
একে অপরকে ভালোবাসি
জীবন একটা প্রবাহ তাই -
শুধুই বয়ে যায়
চলার পথে কত স্মৃতি
চাপ তার রয়ে যায়
এমন কিছু তোমায় বলি
তুমিও যাও রেখে
জীবন তোমার শেষ হলেও
সকলের মাঝে রবে তুমি বেঁচে।।
ষষ্ঠ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা:
কবি অসীম সরকার
কাব্যগ্রন্থ : দশটি কবিতা
কবি পরিচিতি :
কবি - অসীম সরকার
পিতার নাম--স্বর্গীয় পৃথ্বীশ সরকার
মাতার নাম--স্বর্গীয়া জি.এস.সরকার
বর্তমান ঠিকানা- -রীতা আবাস, পূর্ব সারদাপল্লী
কলকাতা--৭০০১১৮, পঃবঃ
জন্মস্থান--৪ নম্বর তিলক লেন, কসবা, কলকাতা
জন্মতারিখ--০৯-এপ্রিল
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ যথাক্রমেঃ--
🔰 বিচিত্র কাব্যদর্শী (যৌথ), ত্রিধারা (একক),
৬-এ ছড়াক্কা--ষষ্ঠ সিরিজ (যৌথ), বনকুসুম
(একক) পরমাণু কবিতার বই, উল্লেখযাগ্য।
💐 পুরস্কার--* কাব্যশ্রী * হাইকু প্রভাকর * কাব্য-
সুধাকর * সাহিত্য রত্ন * শ্রষ্ঠ ছড়াক্কাকার *
কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার। প্রভৃতি।
কবিতা :
দশটি কবিতা
অসীম সরকার, (কলকাতা)
১-এ (চন্দ্র)
শাড়ি
মা দেখছে শাড়ি'র ছবি
নেটে ঘুরে ঘুরে...
খাটের থেকে পড়ে শিশু
কাঁদে হাত পা ছুড়ে।
মাথার পিছন ফুলে গেছে!
বরফ বোলায় ধীরে
অবোধ্য তার মুখের ভাষা
কাঁদে গলা ছিঁড়ে।
(পক্ষ)
জল
কত জল যে বইবে আরো
সেইটা দেখা বাকি
শরৎকালের মাদকতা
জল ঢেলে সব মাটি!
এবার একটু ক্ষান্ত হও
ফোলায় শিশু গাল,
বছরভর হবে নাকি
কেবল বর্ষা কাল?
(নেত্র)
নতুন জামা
নতুন জামার গন্ধ শুঁকে
খুকুমণি রোজ,
খোকাবাবুর আর্জি শুধু
পূজায় ভালো ভোজ!
গাড়ি করে ঘুরতে যাবে
বাবা-মায়ের সাথে...
বড়ো বড়ো দেখবে ঠাকুর
তিলোত্তমায় রাতে।
(বেদ)
দুর্গা মা
সাঁতার কেটে আসবে ঘোড়া?
দুর্গা মাকে নিয়ে---
শাঁখ বাজিয়ে করবে বরণ
উলুধ্বনি দিয়ে।
কৈলাশে মা যাবে ফিরে
ক'দিন থাকার পর
চারিদিকে জল থইথই
নৌকাতে তরতর।
(পঞ্চবান)
ঋতু
ছয়টি ঋতু তালে গোলে
অর্ধেক হলো বাদ!
গ্রীষ্ম-বর্ষা- শীতের দেখা
বাকি কুপোকাত্!
শরৎ হেমন্ত বসন্ত কালের
দেখা মেলা ভার!
প্রাকৃতিক সব চেনা ছন্দ
হলো যে ছাড়খার।
(ঋতু)
বেকার
মুখরক্ষা করতে গেলে
টাকার প্রয়োজন
রাজ্যকর্মী পেনশনভোগী
কোথায় পাব ধন?
স্নাতকোত্তর বেকার ছেলে
কোথায় পাবে কাজ?
লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে,
মহান দেশের লাজ!
(সমুদ্র)
লজ্জা
দুর্গা মাগো ক্ষমা কর পারি না সইতে আর
বছর বছর বৃথাই জীবন যাচ্ছে হ'য়ে পার!
একটা শাড়ি পাঁচটা ফল সেটাও থাকে বাকি
ছেলের চাকরি হয়ে গেলে আর দেব না ফাঁকি।
মুখ দেখাতে লজ্জা লাগে, হই না মুখোমুখি
ঘরে বসেই প্রণাম সেরে মনকে করি সুখী!
নতুন বস্ত্র হয় না কেনা অবসরের পর----
সুখের দিন সব শেষ হয়েছে বুকের মাঝে ঝড়!
(অষ্টবসু)
পুষ্টি
পুষ্টি জোটে ভাত রুটি'তে
মাছ-মাংস কই!
ফলের পুষ্টি ধনীর দেহে
নেপোয় মারে দই।
চাইনা সোনা মণি মুক্তা
চাই না যখের ধন,
দাও গো মাতা নিরোগ দেহ
সরল সোজা মন।
(নবগ্রহ)
পবিত্রতা
ফুলের মতো দাও গো হৃদয়
হিংসা থাকুক দূরে
লোভ লালসা ছুড়ে ফেলে
ঈর্ষা যাক না পুড়ে।
পরশ্রীকাতর নোংরা মনের়়...
চাই না পেতে স্বাদ...
পবিত্রতা দেহে মনে
নাই বা রইলো খাদ।
(দিক)
পুজো পাঠ
তুলসী তলায় দীপ জ্বলেনা
দেয় না ধূপের ধোঁয়া!
শাঁখ বাজেনা প্রায়ই বাড়িতে
ভরসন্ধ্যায় শোয়া।
পুজোপাঠের নেইকো বালায়
উঠে গেছে চল...
সেই সময়টা করবো বরং
গল্প অনর্গল।
সপ্তম কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি চঞ্চল কুমার দাস
সিরিজ : ব্লগ ম্যাগাজিন
কবি-পরিচিতি :
আমার নাম চঞ্চল কুমার দাস। আমি পশ্চিমবঙ্গের একজন বাসিন্দা। সেই ছোটবেলা থেকেই আমার সাহিত্যের প্রতি খুব আগ্রহ। একাকী জানালার ধারে বসে আমি অনেক অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেছি। বর্তমানে আমি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছি। সাহিত্যের প্রতি আমার চিরকালের ভালোবাসা ছিল আছে ও থাকবে। বিভিন্ন ম্যাগাজিনে কবিতা পাঠাতে আমার খুব ভালো লাগে।
কবিতা :
১)
শরৎ এলেই
কবি চঞ্চল কুমার দাস
শরৎ এলেই
আকাশে সাদা মেঘ ভাসে ।
শরৎ এলেই
দুধ সাদা কাশঝাড়ের সমাবেশ ।
হাওয়ার সাথে তাল মেলানো
মণ মাতানো আবেশ ।
শরৎ এলেই
বই খাতা বন্ধ হয়ে
ছুটির গন্ধ ভাসে ।
আকাশে - বাতাসে পূজোর আমেজ ।
শরৎ এলেই
বন্ধু - বান্ধবীদের সাথে
প্রানখোলা হাসি হাসা ।
ঘুরতে যাওয়ার ফন্দি আঁটা।
শরৎ এলেই
পুরনো ছবি চোখের সামনে ভাসে ।
ভালোবাসাকে নতুন করে
ভালোবাসি ,
জীবনে বাঁচার স্বাদ খুঁজে পাই ।
২)
মা আসছে
কবি চঞ্চল কুমার দাস
একবার চোখ গেল শহর থেকে দূরে, যেখানে একটু নীরবতা ঘুমিয়ে জেগে থাকে।
মাটির রাস্তা ধ'রে ধানখেত দিয়ে ছেলেরা যায় নাইতে।
পায়ে লুটিয়ে প'ড়ছে কাশের ঝাড় ।
খানিকটা দূরে রেলগাড়ি কু ঝিকঝিক করে ধোঁয়া উড়িয়ে যায়।
একচিলতে রোদ গাছের ফাঁকে উঁকি মারছে।
কলসী নিয়ে ঘোমটা টেনে বৌ রাঙা পায়ে ঘাটের দিকে।
রামধনুর মতো মেঘে ফুটে ওঠে মায়ের মুখ।
করুনায় ভরা অবকাশে
দিন ব'য়ে যায় শান্ত জলের ধারার সাথে।
হিল্লোল জেগে ওঠে হাওয়ায়।
শিউলি ফুলের গন্ধে অতিথি আসার খবর পৌছে যায়।
দিকে দিকে ফুটে ওঠে
তার আলোকছটা।
৩)
শারদীয়া
কবি চঞ্চল কুমার দাস
শরতের মেঘমালা মুক্ত আকাশে
শান্ত নদীটির শান্ত বাতাসে
চায় কার পানে?
কার পথপানে প্রতীক্ষা করে,
আগমনী বার্তায় নিজ প্রাণ ভরে,
নতুনের গানে।
সমস্ত জীবন ঘিরে
মন প্রাণ দীন করে,
আসি আসি বলে নাহি আসে,
প্রতীক্ষার হয় অন্ত,
আলোকিত দিক দিগন্ত
সবাইকে যেন ভালবাসে।
৪)
ছবি আসে যায়
কবি চঞ্চল কুমার দাস
ঢেউয়ের শব্দ ভেসে আসছে।
নির্জনতায় একাকিত্ব ভালোবাসছে মনকে।
চাঁদ দিগন্ত ছাড়িয়ে উপরে।
একটু একটু করে হাওয়া
চলেছে ভাষা ভাষা হয়ে। নৌকাটি ভাষছে,
ঢেউয়ের দোলায় যাচ্ছে আসছে।
একটি পাখি উড়ে গেল। গভীর নীল চোখ।
তারপর পালকের মতো মেঘে
মিলিয়ে গেল।
তারাদের ওড়না জড়ানো রাতে এমনি করে
ছবি আসে আর যায়।
৫)
কঠিন
কবি চঞ্চল কুমার দাস
কঠিন আমার কাছে অজানা,
দরবারে তার দিয়েছি হানা,
সহজ সরল করেছি তাকে
শ্রমের জারক রসে।
তাকে দেখে পাই নিতো ভয়,
ভালোবেসে তাকে করেছি জয়,
অহরহ তাকে আঁখির প্রহারে
এনেছি নিজের বসে।
দেখেছি আমি এ ধরায় যারা
দেখেছে সূর্য দেখেনি তারা,
শতসহস্র প্রানের মাঝে বৃহৎ বিশাল রাজে,
নিজের প্রতি আস্থা রেখে,
নিজের লক্ষ্য সামনে দেখে
বলেছি কঠিন নয়তো কিছুই
প্রমাণ করেছি কাজে।
৬)
বিরত
কবি চঞ্চল কুমার দাস
যখন যা ছিল সবই দিয়েছি
কখনো করিনি মানা,
কোন অপরাধে তবে সবকিছু
হলো না আমার জানা ?
বিরত থেকে কেন হারালাম
আমার পরিচয়,
নতুন পথে নামতে তাই
এখন যে ভয় হয়।
ঘুমের দেশে খরগো হাতে
অসময়ে দিলে হানা,
কোন অপরাধে তবে সবকিছু
হলো না আমার জানা।
৭)
মৃত্যু
কবি চঞ্চল কুমার দাস
যত জ্বালা যন্ত্রণা কানে দেয় মন্ত্রণা,
বিদায় নেবে সবাই আজ জীবনের পরপারে।
ভুলি নাই আমি ভুলি নাই সবাই যে আজ পাবে ঠাঁই,
সাড়া দেবে না প্রাণ আর বাইরে চিৎকারে।
জমা ছিল যত আশা মোর বুকে বাঁধে বাসা,
কিছু অপূর্ণ কিছু বা পূর্ণ হয়ে।
সবে আজ হবে লীন জীবন শেষের দিন,
কেউ অক্ষত কেউবা গেছে ক্ষয়ে।
আশার সীমারেখা সীমায় না যায় দেখা
আমার জীবনে ছিলো ছিলো চির পিপাসিত।
জীবন ছন্নছাড়া হয় সে বাঁধন হারা,
মরণ আজ জীবন করবে ধৃত।
সুখ-দুঃখ কে পেয়েজীবন উঠেছে বেয়ে,
অবলম্বন নেই যে উপরে আর।
পেয়েছি পরম তৃপ্ত পরান হয়েছে দৃপ্ত,
খেলা শেষে আজ জীবন মানবে হার।
অষ্টম কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি শান্তি রঞ্জন দে
কাব্যগ্রন্থ : ফিরে আসুক ছেলেবেলা
কবি পরিচিতি : --
সাতের দশকে কবির জন্ম /
পিতা : স্বর্গীয় যতীন চন্দ্র দে
মাতা : স্বর্গীয়া মিলন বালা দে /
লেখার প্রেরণা পেয়েছেন মায়ের কাছে /
রূপসী , খরস্রোতা , শুধু লিমেরিক , ছড়াপত্র পরত , সুস্বাস্থ্য , তথ্যকেন্দ্র , লিমেরিক সমগ্র , প্রসাদ কবিতা সংকলন এবং অন্যান্য লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে /
ফেসবুকে কবির নিজস্ব কবিতার পেজ ( santiranjan, s poem ) আছে
কবিতা :
১)
" ছেলেবেলা "
কবি শান্তি রঞ্জন দে
দোহাই মাগো দাও ফিরিয়ে
আমার সাধের ছেলেবেলা
পড়ার ফাঁকে করতে দিও
একটু আমায় খেলা /
ইচ্ছে হলে লিখবো ছড়া
আঁকবো ছবি খাতায়
বইয়ের বোঝা দিও না গো
চাপিয়ে আমার মাথায় /
সব কিছুতেই দক্ষ হবো
আছে কি এমন জাদু
হারিয়ে গেছে রূপকথা
আর গল্প বলা দাদু /
পড়াশোনার চাপে মাগো
হাঁপিয়ে ওঠে প্রাণ
ভালো লাগে খেলতে মাঠে
মন করে আনচান /
আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে মা
মিছেই শুধু ভাবো
বড় হলে ছেলেবেলার
সুখটা কি অরে পাবো /
তুমিও তো মা ছিলে
যখন ছোট্ট এতটুক
ছোট মনে ভরা ছিল
ছেলেবেলার সুখ।
২)
" রূপকথা "
কবি শান্তি রঞ্জন দে
বুক ঠুকে ভাই এই কথাটা
বলতে পারে ক'জন
ছেলেবেলার পায় ফিরে স্বাদ
আজকের শিশু মন /
হারিয়ে গেছে জাতক গল্প
ঠাকুর মায়ের ঝুলি
আজকে শিশু প্রাজ্ঞ ভারী
শিখছে নানান বুলি /
নেট দুনিয়ায় মন যে ওদের
আজকে শুধু করে আনাগোনা
নেই যে সময় স্বপ্ন মায়ায়
রূপকথারই গল্প শোনা /
আজকে শিশু ব্যস্ত ভীষণ
অস্থিরতার নানা প্রতিবন্ধ
আসুক ফিরে হৃদয় ঘিরে
ছেলেবেলার মিষ্টি মধুর ছন্দ।
৩)
" শপথ নাও "
কবি শান্তি রঞ্জন দে
আজকে যারা ছোট্ট শিশু
তাঁরাই জাতীর ভবিষ্যৎ
নিষ্ঠা আর যত্ন দিয়ে
তাঁদের গড়ার নাও শপথ /
ছোট্ট শিশু আজ যে অবুঝ
কালকে তাঁরাই চিন্তাশীল
স্বপ্নময় সমাজ গড়তে
মহান ব্রতে হও সামিল /
মুক্ত মনে আজকে ওদের
কলুষতার নেই তো বিষ
সঠিক পথের দেখাও দিশা
দাও মমতা স্নেহাশীষ /
আজকে ওরা কিশলয়
মনেতে নেই ঈর্ষা গ্লানী
না ছোঁয় যেন ওদের হৃদয়
রক্তপাত আর হানাহানি /
মানুষ হওয়ার মন্ত্রে ওদের
দাও গো মহান দীক্ষা
দেশ ও দশের গৌরবেতে
পায় যেন সব শিক্ষা ।
৪)
" হাসুক ছেলেবেলা "
কবি শান্তি রঞ্জন দে
ইট কাঠ পাথরের আজকের শহরে
শিশুদের মন বুঝি বন্দী
নেই মাঠ চৌপাট বিকেলের খেলা
মোবাইলের সাথে করে সন্ধি /
বড়রা ভেবে দেখো একটু
সময় আনছে বদল শিশু মনে
শিশু সুলভ মনটা কেমন
বদলে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে /
মানুষের মতো হোক মানুষ
দরাজ হোক দিলটা
ভাবনার জগতে না হারায় যেন
খুলে দিও বন্ধ মনের খিলটা /
হাসি খুশী থাকে প্রাণ
হাসুক ছেলেবেলা
জীবনে থাকে ছেয়ে
সোনালী আলোর বেলাটা ।
নবম কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি প্রশান্ত মন্ডল
কাব্যগ্রন্থ : মনের কাব্য
কবি পরিচিতিঃ-
পিতৃদত্ত নাম প্রশান্ত মন্ডল।
পিতা স্বর্গীয় লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল।
মাতা কিরণবালা দেবী।
বর্তমান ঠিকানা - অম্বিকানগর (শিলিগুড়ি), পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
সেই শৈশবকাল থেকেই অভাব-অন্টনের মধ্য দিয়ে বড় হয়ে ওঠা। স্কুলজীবন থেকেই লেখা-লেখি তথা মহামানবদের জীবনীর প্রতি আকর্ষণ। সেইসময় থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ঝোঁক। তাছাড়া ভালোবাসার বিশেষ বিষয়বস্তু রূপে শিল্প, অঙ্কন, থিয়েটার-সিনেমা-অভিনয়, আবৃত্তি, সঙ্গীত এবং সেগুলোতে ওতপ্রোতভাবে সংযুক্ত। যেটা যতটুকু সম্ভব সময়ের দৌড়ে চলতে থাকে তাল মিলিয়ে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও বর্তমান। জীবনের যা-কিছু প্রাপ্তি তা জীবনের উপরেই উৎসর্গ করা।
কবিতা :
১)
চাহিদা
কবি প্রশান্ত মন্ডল
চাহিদা বাঁচিয়ে রাখতে হলে
ক্ষুধা'র বড় প্রয়োজন।
বোধকরি, খিদেটা'ই চাহিদার জন্মভূমি।
খিদে না পেলে,
চাহিদা'র জন্ম হওয়া দায়।
যেভাবে, ভরা পেটে
পৌষ্টিক সুস্বাদু আহারও..
বিস্বাদ লাগে বড়।
আর চাহিদা-ই যদি না জন্মায়..
তবে, সৃষ্টির চোখ মিলবে কোথায়?
২)
বালিশ
কবি প্রশান্ত মন্ডল
এক বুক আবেগ
আর দু-চোখে নোনাজল সঞ্চিত হলে
নীরবে আলিঙ্গন করে
তার ভাগ-টুকু চেয়ে নেয় সে।
বাইরের ঝোড়ো হাওয়ায়
আহত হয়ে ঘরে ফেরা থেকে
সারারাত ব্যাপী.. উদঘাটন, উৎপীড়ন
কিংবা যা কিছু গোপনীয়,
এমনকি নিজের সাথে দ্বন্দ্বময়-ছন্দময়তার যত রহস্য
সবটা'র হিসেব রাখে সে, আপোসে।
৩)
অদ্বিতীয় বিনয়ের প্রতি
কবি প্রশান্ত মন্ডল
তাঁর চরণ স্পর্শ করবার
সুযোগ মেলেনি কোনোদিন
কেবল তার দু-একফালি
কলমের উষ্ণতার আঁচ পেয়েছি এক একদিন।
সাহিত্য-মহলে সরব উঠেছিল..
যেদিন তিনি নীরবে ছুটি নিলেন
কত শত পত্র-পত্রিকা, কলম-কালি
নিঃসঙ্গতার দাবানলে আঘাতীত হয়েছিল, গহীন।
সেই-সমস্ত স্থানগুলোও অনাথ হয়ে গেল
যে প্রিয়-স্থানে বসে তিনি লিখতেন, বিচরণ করতেন
সে সুপ্রিয় মানুষগুলোর চোখে-মুখে আজও কালোদাগ
যারা তার ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠতেন।
সে-গন্ডিমার বাইরে দাঁড়িয়ে অন্তত এটুকু অনুভূত হয় আমার
এ পৃথিবী থেকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্থান পরিবর্তন করে নিলেন তাঁর।
৪)
পরম বন্ধু
কবি প্রশান্ত মন্ডল
আমার এই ত্রিশ বৎসর বয়সে..
সহস্রবার গণনা করে দেখেছি,
ঘুরে-ফিরে যে আমার একমাত্র পরম সখা,
চরম দুঃসময়গুলোতে সেই আমার খবর নিতে আসে।
আলাপ করে, আমার অবস্থা জিজ্ঞাসা করে
অবশেষে আমার হাতের আঙুলগুলো টেনে
আবদার করে.. চলে যেতে বলে ওর সাথে
এসব ছেড়ে, তোমাদের ছেড়ে..
আমি দ্বায়বদ্ধতায় বারবার ওকে ফিরিয়ে দিই শূন্য হাতে
আমার সেই পরম বন্ধুটি আর কেউ নয়.. 'মৃত্যু'।
৫)
কিছু ছায়া
কবি প্রশান্ত মন্ডল
কিছু ছায়া, রোজই পিছু নেয় আমার
সেই হাফ-প্যান্ট পরা শৈশব থেকেই..
আমি পালিয়ে বেড়াতে পারি না কিছুতেই
যখন যেখানেই ছুটতে থাকি..
হাট-বাজারের অতি জনঘনত্ব যুক্ত এলাকা হোক
জনহীন রাস্তা কিংবা শুনসান মাঠ
কিংবা গহীন অরণ্যের ভেতর পিন ড্রপ সাইলেন্স-এ
যেথা যাই না কেন?
স্বস্তি নেই আমার,
সূর্যের আলো না পৌঁছালেও, ওরা ঠিকই পৌঁছে যায়।
গাছের পেছন থেকে কিংবা আড়াল থেকে
ওরা উঁকি মেরে মেরে দেখে আমায়, দেখে চলে..
কখন, কি করছি না করছি
কোথায় যাচ্ছি, কি খাচ্ছি
এমনকি কারুর সাথে সাক্ষাৎ করলেও তাঁক করে চেয়ে থাকে
সুযোগ পেলে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়..
কি করছিস, কোথায় চলেছিস?
অবশেষে, পরিচয় কি তোর?
আমি ছাড়া কেউ শুনতে পায় না
কেউ দেখতে-ও পায় না ওদের।
আমি, উত্তর করিনা আর..
পালিয়ে-ও বেড়াই না ওদের থেকে
এক বুক শ্বাস নিয়ে কেবল ঘুরে দাঁড়াই
আর একটু একটু করে, কেটে ওঠার গতি বাড়াই।
দশম কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি নবীন মন্ডল
সিরিজ : ব্লগ ম্যাগাজিন
১)
এক দেখা
-------নবীন মণ্ডল
কত দেখা চোখে পড়ে...
থাকে, নয় দূরে,
আকাশ-কুসুম কল্পনা জাগে
তবুও মন না ভরে।
বাড়ে ক্লেশ বাজে বুকে
সমাজ সুখের যন্ত্রণা ;
মানুষের কল্যাণে ব্যথা,ক্ষয়
নয় প্রেম মন্ত্রণা।
লাগে না কাজে আত্মার তৃপ্তি
চোখের ছন্দ পতন;
কলুষিত জাতি,ধর্ম, কর্ম
সব আঁধারের মতন...
বিষিয়ে একাকার করে দেয়
জীবন, এক দেখা...
মঙ্গলে অমঙ্গল ঢেকে নেয়
মৃত্যু যৌবন রেখা।
----------
২)
তাঁবু
---নবীন মণ্ডল
এক পশলা বৃষ্টি, বাত্যা
ধুয়ে দিতে পারে তোমায়,
গৌরব জানিনা কেমন অগত্যা ;
আস্তানা নেই বলে মানায়...
ভেবো না বালিয়াড়ি ভালোবাসে
ভালোবাসে মরু পাহাড়তলী,
অসহায় বলে সঙ্গী করে হাসে...
মানুষ, প্রকৃতি বলেই বলি।
----------
একাদশ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি মৌসুমী মুখার্জী
কাব্যগ্রন্থের নাম :- অনুভূতির কলমে
১)
গোধূলি গগনে
মৌসুমী মুখার্জী
আজ তোমার জন্যে তুলেছি কলম
মনস্তাপের আর নেই তো কারণ,
স্বীকারোক্তি অকপটে তোমার,
তবে কিসের ভাবনা কিসের আঁধার।
অ–সুখেই জীবনতরী হলো পারাপার
গোধূলির অস্তরাগে নেই কোনো লাজ আর।
শ্রদ্ধা আমারও আছে তোমাকে জানাই
মননে অনন্য তুমি ,জানি সর্বদাই।
যা কিছু মিছে সব পরে থাক , অনাড়ম্বরে,
ভালোবেসে যাও তুমি ভালোবাসো যারে।
নিরাশ জীবনে মন দেওয়া নেওয়া নয় তো জহর,
তবুও বসন্ত ফাগে , জুঁইয়ের মালার ভীষণ কদর।
লাল সে নাই দিলো গোলাপ তোমায়,,,,
একটি বেলী ফুলেও ভালোবাসি বলা যায়।
সম্পর্ক হোক না এমন যেনো দূরে থেকেও একটু ছোঁয়া যায়।
মন জানে নিষ্পাপ চাহিদা, যা কিছু প্রেম এই অবেলার ......
আকাশ যেখানে দিগন্তে মেশে বিনা কোলাহলে এসো বসন্ত আমার।
২)
আমার একলা আকাশ
মৌসুমী মুখার্জী
একটা একলা আকাশ যদি আনো
সাথে এক রিমঝিম শ্রাবণের ধারা বুনো,
আমি অশ্রু লুকিয়ে ফেলতে পারি যেনো।
আমার মনে কালো মেঘে ভরা
তুমি ভিজিয়ে দিও অকাল বাঁধন হারা।
মনখারাপের নদীতে অবগাহনে,
চাঁদের জোৎস্না মাখা হলো না অঙ্গনে।
তোমার বৃষ্টি শেষে ঝকঝকে আকাশ দিও,
আমি লক্ষ ভিড়ে তোমায় খুঁজে নেবো প্রিয়।
আমার রুদ্ধ দুয়ার আলগা দেখে যবে
তুমি আগল ঠেলে যদি আসো মনে ভেবে,
আমার কান্না তখন কোথায় মিলিয়ে যাবে,
ভালোবাসার হাতটা যখন আমায় ছোঁবে।
৩)
যখন জলের শব্দ শুনতে পাই
মৌসুমী মুখার্জী
মরুভূমিতে দাঁড়িয়েও কলকল বহতা নদীর শব্দ শুনি,
পাড় ভাঙ্গা নদীর চর, তবু থাকি মোহনার আশে।
যদি তুই পাশে থাকিস, ভালোবেসে।
দিনান্তে ক্লান্ত পাখি ফেরে আপন নীড়ে,
আমি নীরের শব্দ শুনি শিশির ভেজা ঘাসে ,
যদি তুই থাকিস আমার আসে পাশে।
রাতে যখন ক্লান্তি নামে চোখে, নয়নে সবার ঘুম জড়িয়ে আসে,
আমার দুচোখ জুড়ে তোর ছবিই ভাসে।
তোকেই দেখি মন ক্যানভাসে।
চোখের জলে বালিশ ভেজে,
চাঁদের কাছে লক্ষ তারা দেখি,
নয়তো কল্পনায় তোর পিঠে আস্ত এক গ্রামের ছবি আঁকি।
কখনো কি ভাবিস আমার কথা,,,
নিঃশব্দে ছড়িয়ে দিস বুটি চাদর নীল আকাশে,
তুই থাকিস না তখন আমার পাশে,
আমায় ছেড়ে, আমায় ভুলে থাকিস অনায়াসে।
৪)
শরৎ এলে
মৌসুমী মুখার্জী
যাবো যাবো করেও থেকে গেলো বর্ষা,
শরৎ কালে সাদা মেঘ ,আর পায় না ভরসা।
থোকা থোকা কালো জলধর আকাশ জুড়ে।
কখন টিপ টিপ কখনো রিমঝিম শহর জুড়ে।
তবুও শরৎ আসে আপন নিয়মে সময় হলে,
কাশের বনে মাতোয়ারা হৃদয় দোলে।
শিউলি ফুলে আবাহনী গীত সুবাস ছড়ায়,
ভোরের বেলায় ঝরে থাকে ফুল উঠোন ভরায়,
শরৎ কালের অতিথি আজ আসবে ঘরে,
সাজো সাজো রব তোলে সবাই মায়ের তরে।
মা যে আসছে আগমনী সুর বাজবে ভোরে,
টলমল জলে ভরেছে সরোজ শতদলে।
ওই শোনা যায় কাশের বনে ঢাকির পদধ্বনি,
দলে দলে তারা ছেড়েছে তাদের আপনভূমি।
ঢাকের বোল কাশের দোল ধরণী মাতায়
শরৎ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠায় শারদীয়ায়।
মৃন্ময়ী মায়ের চিন্ময়ী রূপ পটুয়া খুশি শরৎ এলে,
দিকে দিকে মূর্তি গড়ার বায়না পেলে,
মহালয়ার ভোরে দেবেই চোখের সাজ,
শেষ কোরো সব এই শরতেই মলিন, অপ্রাসঙ্গিক কাজ
শ্রী ফেরাও ঘরের এবং ধরিত্রী জুড়ে,
শরৎ এলেই মননে বাউল গান শ্যামলীমা জুড়ে।
ওই যারা ঘোরে ছেঁড়া কাপড়ে অন্নের খোঁজে,
দেদার অর্থ অপচয় না করে লাগাও ওদের বস্ত্র ,ভোজে
নতুন কাপড় উঠুক ওদের পরনে এবার,
এই শরতে মাতুক সবাই পুজোয় আবার।
৫)
কুসুমে কুসুমে চরণ চিন্হ দিয়ে যাও
মৌসুমী মুখার্জী
আকাশ ভাঙ্গে বৃষ্টি আসে,
জল থৈ থৈ প্লাবনে ভাসে।
তোমার জন্যে শ্রাবণ কাঁদে,
শব্দরা সব ছন্দে বাঁধে।
এতই কি সহজ তোমায় লেখা,
লিখবো বলে লইনু খাতা।
বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো
তোমায় বাঁধি সাধ্য কোথা।
জুঁই কেতকী পড়েছে ঝরে
মল্লিকার সুবাস আকুল করে
ফুটেছে ওরা তোমারই টান
কবিতায় কত দিয়েছো প্রাণ।
ওরাও কি জানে এত আদর,
বুঝবে মানুষ ওদের কদর।
ফোটা আর ঝরতেই জন্ম ,
কিছু কাজে লাগে ,ব্যাস সারা কম্ম। আজ মালতীলতা মুচকি হাসে,
রবি যে ওকেও ভালোবাসে।
মন ভরে যায় হাস্নু ,চাঁপার,
কত অজানা ফুলের বাহার।
অমলতাসও ছন্দে আকুল,
ফুটেছে আজও প্রিয় বকুল।
সবাই তোমায় স্মরণ করে
সুধারা কি আর ভুলতে পারে! পাখি প্রজাপতি ভ্রমর অলি,
চোখের জলে গাইলো দু কলি।
প্রনাম তোমায় জানায় ওরা,
গুঞ্জরণে আকুলতায় দিয়ে সাড়া।
মাঝিমল্লারা ওই ভজে ভাটিয়ালি,
একতারায় সুর তোলে বাউলী।
শিশুরাও শ্রদ্ধা জানায় নৃত্য গানে,
তোমায় সবাই ঠাকুরই মানে। কেউকি তোমায় ভুলতে পারে !
সকল আনন্দব্যথা কাজের অবসরে,
গান কবিতা তোমারই তো গায়,
একটু লিখতে যেন আমিও পারি ,
আশীষ দাও তুমি , প্রণমি তোমায়।
৬)
বাংলা ভাষা তোমায় শ্রদ্ধা
আমি গর্বিত আমি বাংলা ভাষী
মৌসুমী মুখার্জী
বার বার জন্মাই যেনো মাগো এই দেশে,
বাংলা ভাষাতেই কথা বলি যেনো ,তোমায় ভালোবেসে।
ভালোবাসি তোমায় বাংলা, দেশ আমার,
জন্মেছি এই দেশে আমার অহঙ্কার।
কি করে বোঝাই বলো
ঠিক কতটা তোমায় ভালোবাসি,
আমি গর্বিত ,আমি বাংলা ভাষি।
তোমার সাথে প্রথম দেখা ,, প্রথম কথা
আধো আধো বুলি,
তোমায় প্রথম ছোঁয়া ,,স্লেট পেন্সিল রং তুলি।
তোমার সাথে নিত্য দেখা তোমার সাথে থাকা,
তোমায় খুব ভালোবাসি তাও এই ভাষাতেই লেখা।
তবুও তুমি হারিয়ে যাচ্ছ,বিদেশী ভাষার চাপ,
নতুন প্রজন্ম লজ্জা পায়, বাংলা ভাষা , শিখতে হবে, ভীষন অনুতাপ।
ছেলে মেয়ে শিখবে বাংলা পিছিয়ে পর্বে যে,
কনভেন্টে পড়ছে তারা বিদেশ ডাকছে।
মাতৃভাষায় কথা বলা নিদারুণ অভিশাপ,
ইংলিশটাই রপ্ত হোক বাংলাটা না হয় থাক।
অথচ এই বাংলা ভাষা সন্মান দিতে
শহীদ হলো কত মানুষ , নিঃশেষে দিলো প্রাণ ।
ফেরাতে তোমার মান দিয়েছে আত্ম বলিদান।
কত হাহাকার স্বজন হারানোর ব্যথা,,,
শুধু এই ভাষায় বলতে পারে যেনো তারা কথা।
একুশে ফেব্রুয়ারি তাদের করে স্মরণ ,
মনে করায় শহীদদের জন্যে রচিত ব্যথা ভরা গান।
শুধু একটা দিন বরাদ্দ নয় করতে তাদের স্মরণ,,
কোথাও পাবে না খুঁজে ভাষার মান দিতে আন্দোলনে অমর মরণ।
লিখতে চাই যে অনেক কিছু
পারছি কই,, অক্ষমতার দায়,,
রুপকথারা ডানা মেলে আসে
এই ভাষাতেই ,,দাদু দিদার গল্প মালায়।
রবীন্দ্রনাথ ,নজরুল রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদি গান,
এই ভাষাতেই ভাটিয়ালি বাউলের একতান।
৭)
দাও ফিরে সে অরণ্য
করো ক্ষমা হে তরু
মৌসুমী মুখার্জী
বৃক্ষের সরলতা সুযোগ পেয়ে দিয়েছো কত আঘাত ক্ষত,
আজ হাহাকার অম্লজানের
প্রয়োজন যত।
কিভাবে কেটেছ স্মরণে করলে হয় শিহরণ,
এস গাছ লাগাই করি তাকে আলিঙ্গন।
একটা শ্যামল অরণ্য চাই ভরা বনানী,
চিরকাল তার কাছে সবে থাকি ঋনী।
সারি সারি চারা পুঁতে করি রোপণ,
ঢালি জল আছে সাথে আকাশে তপন।
খাদ্য গাছের এই তো তবুও দিয়েছি ফাঁকি,
সব শুনশান হলে আমরা কোথায় থাকি!
চেয়ে নিই সেই অরণ্য মানুষ বাঁচুক না করে শংকা,
সময় এখন আছে হয় নি শেষ বাজেনি ডঙ্কা।
এস লেগে পড়ি করি সোজা মেরুদন্ড,
বিবেকের হাতে খোয়াব না আর মানদন্ড।
পাখিরা এসে বসবে গাছে আকাশে উড়বে শঙ্খ চিল,
হাসবে মানুষ খেলবে বাতাস শ্যামল ঘ্রানে নীলিমায় নীল।
অসময়ে পাবে সাহারা উদ্ভিদ দেবে আশীর্বাদ
চেয়ে যদি নি করবেই ক্ষমা, মোদের অপরাধ।
৮)
আমি অপরাজিতা
মৌসুমী মুখার্জী
পলাশের লাল রং মেখে ছিলেম দেহে,,
জড়িয়ে তরু উত্তরণ,, ,মগডালের আলিঙ্গন লিপ্সা।
নিবিষ্ট ছিলেম দোঁহে, হঠাৎ প্রপাত ধরনিতলে।
ঝড়ে ভেঙে গেলো পলাশ, রক্ত স্নাত ,হৃদয় চুরমার,,
তবু তো আমি অপরাজিতা, বাতাসে দৈববাণী , হাল ছাড়িস না ,
ধীরে অপোক্ত দেহ নিয়ে এগোলাম আরো কিছুটা ,,
অদূরেই কৃষ্ণচূড়া, লতিয়ে দিলাম দেহ।
কিছুটা শান্তি, একটুকরো আশ্রয়।
পাশেই রাধাচূড়ার কটাক্ষ,,, রাগত দৃষ্টিপাত,
ভয় নেই গো......
আমি অপরাজিতা , হারবো না জীবনে।
শুধু বাঁচার অবলম্বন চাই, দুর্বল মেরুদন্ড
বিধাতার সৃষ্টি,
তোমরা দুই মহীরুহ , নিও বাসন্তিক শুভেচ্ছা।
শুধু কেড়ে নিওনা আমার আশ্রয়। ষড়ঋতুর দিক চক্রবালে আমার সতত উপস্হিতি।
স্বয়ং মা দুর্গার অতি প্রিয়, নামেও.......
আমি অপরাজিতা, হারতে শিখিনি দশভুজার অদম্য মনোবলে রোজ বাঁচি পরাজিত হবো না কখনো।
৯)
বিনি সুতোর মালা
মৌসুমী মুখার্জী
উজান স্রোতে বাইছিলো দোঁহে তরী
হঠাৎ তুফান মাঝ বরাবর নদী
তলিয়ে গেলো তলাতলে নিঃশব্দে
একটি প্রাণ আঁকড়ে খড়কুটো
আর একটি হারিয়ে গেলো মহার্ণবে।
আছড়ে পরে তীরের কাছে মেয়ে
জীবন তখন কালো মেঘে ঢাকা
সঞ্চিত সব শক্তি তে জোট বেঁধে
যখন ঘুরে দাঁড়ালো , সব হয়েছে ফাঁকা।
শেষ বিকেলের ডাক ডেকেছে তখন
শুরু হলো একাকী অন্তিম পথ চলা।
শান্ত নদীর ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে শিমুল,
ক্লান্ত মেয়ের দন্ড দুয়েক জিরিয়ে নেবার পালা।
নদীর তীরে নুড়ির ওপর বসে মেয়ে
মাথার ওপর শিমুল তরুর ছায়া,,
চোখের জলে ভাসছে নুড়ি পাথর,
হালকা হয় না মেয়ের মনের জ্বালা।
হঠাৎ দেখে নুড়ি তো আর নেই
লক্ষ লক্ষ মুক্ত জলজ্বলিয়ে চেয়ে
ধবল পালের চাদর ছিলো বুকে
আলোর রোশনাই গেলো কেমনে ছেয়ে।
কান্না তখন শুকিয়ে আছে চোখে
মুক্তদানা সেথায়ও দীপ্তি ছড়ায়
মাথার ওপর হাত রাখলো যেন কেউ
বললো,, ও মেয়ে তুই গাঁথ না মালা বিনি সুতায়।
অবাক চোখে তাকায় তাঁর দিকে
অঙ্গে যেন হাজার বাতির আলো
সৌম্য দর্শন স্বর্ণাভ , , ললাট উন্নত
শুধায় মেয়ে,
তুমি আমার সেই ধ্রুবতারা নয়তো?
জীবন মরণ আমি তোমাতেই সঁপেছি
দেবতা তুমি আমার হৃদয়ের অন্তরালে,
চাঁদের আলোয় দেখি তোমার মুখ,
"রবির" ছটায় চাঁদ লুকোয় মেঘের আড়ালে।
আঁজলা ভরে তুললো ধবল পালে
ছড়িয়ে ছিলো মনি মুক্তো যত
বিনি সুতোয় কেমনে গাঁথি মালা
দাওনা বলে আমায় , কেমন সে সুতো।
পিছন ফিরে দেখে দেবতা কখন গেছেন চলে
কেমনে মালা গাঁথি প্রভু দাও না আমায় বলে
হার মানা হার কেমনে পড়াবো তোমার গলে
বলেনি দেবতা আঁধারে গেলো ফেলে
মেয়েটি বলে,,,,,
সেদিন থেকে ই গাঁথি মালা তোমার
কাব্য দিয়ে বিনি সুতোর আখরে
মাঝ বরাবর এখনো হলো না যাওয়া
পরে আছি এখনো সেই কিনারে।
কবে পড়াবো মালা তোমায় আমি!!
গীতবিতানের সুরও গিয়েছে থেমে,
কোন আলোতে জ্বালবো প্রদীপ তোমার,,,
মনার্ণবে লহরী থমকে যাচ্ছে নেমে।
১০)
মিললো না হিসাবটা
মৌসুমী মুখার্জী
অঙ্কের বইটা ছিল যাদের কাছে কঠিন,,
জীবনের অঙ্কটা তাদের কাছে হয়তোবা মসৃণ।
চটজলদি মিলিয়ে যে করতো সমাধান,,,
জীবন সুখের অঙ্কটা ভুলের প্রমাণ।
তৈলাক্ত বাঁশে পিচ্ছিল জীবন ... পড়ে গিয়ে অকস্মাৎ,
সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কেও মেলেনি ধাপ বাই ধাপ।
জটিল জীবন তখন বীজগণিত চটজলদি,
সূত্র ধরে এগোবার করেছিল বহু ফন্দি।
উপপাদ্য ভেবে ছিলো কঠিন বেড়াজাল আমার,
কাঁটাতার পেরিয়ে যাবি কি করে দেখি একবার।
সম্পাদ্য পথ আগলে দিলো ,দায়সারা ,জীবন ছাড়খার,
জটিল অঙ্কে হারিয়ে গেল যা কিছু সম্ভার।
নামতা শেখা সেই শৈশব ছিল, আদুরে রোদ,,,,
আজ সব শুনশান হিসেব নিকেশ সুদাসলে জীবন বোধ ।
আসল যেটুকু ছিল সুদ সেখানে চারগুণ,,
জটিল জীবন ঘিরে হতাশার জ্বলছে আগুন।
বিপ্রতীপ কোণে , অসমান ,অসমান্তরাল জীবন গতিপথ......
চক্রবৃদ্ধিহারে দিয়েই চলেছি খেসারত।
শেষ ট্রেন যাত্রী বিহীন শূন্যতায় সান্নাটা,
বয়ে চলেছে নির্দিষ্ট সময়ের বেহিসাবি দূরত্বটা।
ত্রিকোণমিতি আড়ালে ,ছিল না সিলেবাসে,
হয়তো সায় পায় নি গণিতের ইতিহাসে।
তাই ব্রাত্য আজ আলফা, বিটা, কস থিটা,
সময়ের দুরন্ত গতিবেগ,শুধু মিললো না হিসাবটা।
দ্বাদশ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি রূপালী সাহা
সিরিজের নাম : দুটি কবিতা
কবি-পরিচিতি :
নাম _ রূপালী সাহা
প্রযত্নে_ চৈতন্য সাহা
স্থান _ হাবড়া ( জয়গাছি নেতাজি রোড)
জেলা _ উত্তর চব্বিশ পরগণা
পোস্ট +থানা _ হাবড়া
কবিতা :
১)
অপমানিত নারী
রূপালী সাহা
_________________
নারী স্বাধীনতা আজও বিরল।
গ্রাম বাংলার অনেক ঘরেই ,
আজও দেখা যায় তাদের ,
করা হয় অবহেলা।
নারীরা আজও সমাজের,
কিছু শ্রেণির লোকের দ্বারা,
অপমানিত, লাঞ্ছিত, নিপীড়িত।
করেছো কি তার কোনো প্রতিবাদ?
তবে কেন জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে,
মিছে দিচ্ছো সান্ত্বনা !
আগে করো তার প্রতিকার,
তবে তো বুঝবো তুমি কতটা বুঝদার!
তারপর বলো নারী স্বাধীনতা দরকার।
নাকি তুমি শুধুই মুখোশ ধারী!
তোমার ঘরেও তো রয়েছে,
কত অত্যাচারিত নারী।
হয়েছে তাদের সাথেও,
অনেক বাড়াবাড়ি।
করেছো কি তাদের কোনো উপকার?
তবে কেনো করো তুমি চিৎকার!
বন্ধ কর এবার তুমি,
তোমার বাড়াবাড়ি,
ওহে মুখোশধারী।
২)
প্রতিক্ষার অবসান
রূপালী সাহা
আবির রাঙা সেই গোধূলি লগন
তোমাকে দেখার সেই প্রথম ক্ষণ,
হারিয়েছে এ মন তোমাতে কখন,
দিশেহারা হয়েছে এ মন,
তোমাকে দেখার তরে।
ভালোবাসা সে তো ছিলো হৃদয় গভীরে
চিরদিনই রয়ে যাবে,
মনের আড়ালে গোপনে ,
সবটুকু জুড়ে ছিলে তুমি।
না বলা কথা গুলো হয়তো কখনো,
পাবেনা ভেবেছিল প্রকাশের ভাষা...!
অনুভূতি গুলো হয়তো
ভাবনাতেই রবে চিরদিন গাঁথা,
কবে না কভু কোনো কথা......!
কখনও ছোঁবে না এহৃদয় তোমায় ,
জানবে না কভু তার অনন্ত প্রতিক্ষার কথা,
প্রহর গোনার সেই স্মৃতির গল্প গুলো,
স্মৃতিতেই রবে গাঁথা,
মনে মনে ভেবেছি একথা।
অবশেষে এলো সেই ক্ষণ,
প্রতিক্ষার হলো অবসান।
ত্রয়োদশ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি শুভশ্রী দাস
সিরিজ : প্রেম
কবি-পরিচিতি :
কবির নাম: শুভশ্রী দাস
পিতার নাম: শুভশ্রী দাস
মাতার নাম: স্বর্গীয়া স্বপ্না দাস
বর্তমান ঠিকানা:রবীন্দ্রপল্লী, ইন্দা ।খড়গপুর ।জেলা:পশ্চিম মেদিনীপুর ।রাজ্য: পশ্চিমবঙ্গ ।
জন্মস্থান: খড়গপুর ।
জন্মতারিখ: ১২\০৪\১৯৯১।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:স্নাতকোত্তর বাংলা।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: নেই
সম্পাদিত পত্রিকা:নেই
পুরস্কার: নেই
১)
প্রথম পর্ব
শুভশ্রী দাস
আজ আমার বসন্তের প্রথম পর্যায় ।
কতবাহার রঙিন ফুলের ডালি।
আমি বসন্তে বাঁচতে শিখি ।
শরতের নীল আকাশ,
পেঁজা তুলোর ভেলা।
কাশ ফুলের দোলা ।
আমার ভালোলাগে বসন্তের ভেলা।
তুমি যাবে ভেলায় ভেসে,
আমি থাকব তোমার প্রতীক্ষায় ।
২)
দ্বিতীয় পর্ব
শুভশ্রী দাস
নদীর স্রোতে চোখের জল যাবেই যাবে মিশে ।
বন্ধ হবে গলার আওয়াজ,
মন যে কথা বলবে ।
ঢেউ তুমি খবর দেবে?
কতদূরে সে গেল ।
পালতোলা নৌকা যখন
উজান স্রোতে ভাসল ।
চতুর্দশ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি অভিজিৎ বেজ
সিরিজ : দুটি কবিতা
কবি-পরিচিতি :
আমি পূর্ব বর্দ্ধমান জেলার রায়না -1ব্লকের শ্যামসুন্দর অঞ্চলের মুক্তিপুর এ বাড়ি |
আমি কবিতা লিখতে ভালোবাসি, কবিতা পাঠ করতে ভালোবাসি | আমি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে,
আমি আলোর দিশা সাহিত্য প্রত্রিকায় যোগদান করতে পেরে নিজেকে ধন্য বলে মনে করছি |
অসংখ্য ধন্য সকল সদস্যকে |
কবিতা :
১)
লকডাউনের বন্দিদশায়
অভিজিৎ বেজ
সকাল ছেড়ে দুপুর আসে
বিকাল ছেড়ে রাত |
লকডাউনের বন্দিদশায়
সবাই কুপোকাত |
কে ভিখারি, কেই বা ধনিক, কেই বা মধ্যবিত্ত
মেজাজ এখন খাট্টা সবার সবাই এখন তিক্ত |
ভালো লাগে না কোনো কিছুই শান্তি গেছে চলে
জীবন এখন রিক্ত-হস্তে ভাগ্য গেছে ঝুলে |
কি খাবে আজ শ্রমিক মজুর মধ্যবিত্ত কাঁদে
তাদের খবর কেউ রাখে না গুনছে সবাই প্রহর |
কখন আবার খুলবে চাবি ছুটবে গ্রাম - শহর।
২)
আত্মঘাতী
অভিজিৎ বেজ
গলছে বরফ মেরুপ্রান্তে
জলতল বাড়ছে দিনেক -দিন |
নানান নামে আসছে ঝড়
বাঁচার আশা হচ্ছে ক্ষীণ |
গড়তে শহর কাটছে মানুষ
সবুজ গাছ সবুজ বন|
ইট পাথরের জঙ্গলেতে
বাতাস খোঁজে অবুঝ মন |
সভ্য হওয়ায় নেশায় সবাই
ভবিষ্যতের চিন্তা বাদ |
চোখের আড়ালে বাড়ছে শুধু
মোদের সবার মরণফাঁদ |
পঞ্চদশ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি শাশ্বত দেব
সিরিজ : দুটি কবিতা
কবি-পরিচিতি :
কবির নাম - শাশ্বতী দেব
ঠিকানা - জয়নগর, যুবসমাজ ক্লাব, মধ্যরাস্তা, আগরতলা, পশ্চিম ত্রিপুরা । পিন নম্বর - 799001
মাতার নাম - মিনতি দেব
পিতার নাম - প্রদীপ চন্দ্র দেব
কবিতা :
১)
সবার প্রিয় বই
শাশ্বতী দেব
বই তোমার কি কোন রূপ আছে?
তুমি কি সমস্ত জ্ঞানের ভান্ডার ?
বই তোমায় পেয়ে কেন সব দুঃখ যায় ঘুচে ?
বই তোমার কি প্রাণ আছে ?
তোমার মাঝে আবিষ্কার করি আমার সই ,
কত ভাষায় লেখা হচ্ছে তোমায় ।
বই তুমি বদলে দিলে গোটা সমাজকে ,
তোমার জ্ঞানের আলোয় আমরা উন্ভাষিত হচ্ছি দিন দিন।
বই তুমি আগামীর বার্তাবাহক ,
তোমাতে স্নাত হই প্রতিনিয়ত ।
তুমি সর্বকালের সর্বজনের সঙ্গী,
শিশুরা ভবিষ্যতকে চিনতে পারছে তোমার জন্য ।
২)
জীবন
শাশ্বতী দেব
জীবন একটা চাদরে মোড়ানো অবাক করে দেওয়া অদ্ভূত দৃশ্য,
জীবন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এক জীবন্ত আয়না ।
জীবন তুমি কর আকর্ষণের সৃষ্টি নারী পুরুষের দেহের মাঝে,
জীবন তুমি হলে মহুয়ার পেয়ালা যাকে পান করতে সবাই চায় ।
জীবন তোমার নাম সংগ্রাম যা সবাইকেই করতে হয় ,
জীবন তোমার দ্বারা মানুষ যশ খ্যাতি লাভ করছে ।
জীবন তুমি শেখাও প্রেম করতে প্রেমিক প্রেমিকাকে ,
আশার প্রদীপ দেখতে পাই ছোট্ট পিদিমের মত আমরা এই জীবনে ।
এই জীবনে গ্রহণ করছি সবাই মুক্ত হাওয়া ,
এই জীবন হল হার না মানার প্রতিশ্রুতি ।
জীবন একটা সাদা কাগজ যেখানে লেখা হয়ে যায় আপনা আপনি অনেক কাহিনী;
জীবন তুমি দাও অনুভূতি প্রথম প্রেমের আকর্ষণের ।
ষষ্ঠদশ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি মাজহারুল ইসলাম
কাব্যগ্রন্থ : প্রদীপের কালো আলো
কবি পরিচিতি :
কবি মোঃ মাজহারুল ইসলাম ২০০১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কালিগজ্ঞ থানার অন্তর্গত মকুন্দু মধুসুদন পুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা আব্দুল খালেক একজন ব্যাবসায়ি এবং মাতা মাসুরা খানম একজন গৃহীনি। পিতার তিন সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স ২য় বর্ষের এবং দারুল উলুম চোমুহনী মাদ্রাসার ফাজিল ২য় বর্ষের ছাত্র।
তিনি অনেক ছোট থেকে লেখা লেখি শুরু করেন, তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশ হয় ২১ জানুয়ারি ২০১৯ যশোর জেলার সারসা বার্তা পত্রিকায়, এবং প্রথম যৌথ কাব্য গ্রন্থ অনুভুতির রাফখাতা ও এক মুঠো অনুভুতি
তিনি পল্লী প্রকৃতি প্রেমি ও সাম্যবাদী।
কবিতা :
১)
শেষ প্রতিক্ষা
মোঃ মাজহারুল ইসলাম
একদিন শেষ হবে প্রতিক্ষা
বাতায়নের ফাঁকে উকি দিয়ে দেখতে পাবে
আমি দিঘির পাড়ে বসে করছি অপেক্ষা
তুমি আসবে বলে
আমি খোপায় রক্তজবা ফুল গেঁথেছি
গলে বকুল ফুলের মালা, আর হাতে রক্ত কমল
অন্য হাতে থাকবে প্রেম পত্র।
পরনে লাল শাড়ী
সেদিন অবশ্য মেহদী রাঙা হবে আমার হাত
জ্যোৎস্না রাতে দিঘির পাড়ে আমি অপেক্ষা করব
তুমি এলে তোমার লেখা প্রেম কাব্য শুনব
তোমার বুকে মাথা রেকে
আমি সুখের নিদ্রার রথে চড়ব
তোমায় আর প্রতিক্ষায় থাকতে হবে না
তোমার প্রতিক্ষা খ্যান্তের সময় এলো বলে।
২)
যুগল প্রেম
মোঃ মাজহারুল ইসলাম
ভালোবাসার গভীরতা আমি হয়ত মাপতে পারিনি,
যুগল প্রেমের উচ্চতা আকাশ ছুয়েছে কিনা জানি না।
ভালোবাসার গভীর কুয়ায় ডুব দিয়েও,
পায়নি স্বর্গীয় প্রসন্নতা,
কল্পনার রথে চড়ে,
প্রেমের সুউচ্চ গিরিশৃঙ্গে চড়েও,
পায়নি হতাশার অবসান।
সব কিছুই যেনো সপ্ন ছিল,
হঠাৎই যেন হারিয়ে গেল।
গভীরতায় যেতে যেতে হঠাৎ দেখি আমি ডাঙায়,
গিরিশৃঙ্গ থেকে হঠাৎ হুবড়ে পড়লাম পাদদেশে,
সব কিছু হারিয়ে গেলো,
মুছে গেলো কল্পনার ছবি গুলো,
শুধুই যেন আমার মুখে লেগে আছে,
মহিনী পাত্রের অমৃতের স্বাদ।
৩)
আমি মানুষ নই
মোঃ মাজহারুল ইসলাম
আমি বোধ হয় মানুষ নই,
মানুষ হলে এমন কেনো।
যদিও হই মানুষ তবে,
বোধ হয় অমানুষ কোনো।
নয় আমি বোকার সর্গে,
ভুল পথে হাজার বছর ধরে।
মানুষ যদি হতাম আমি,
প্রেম আমি রাখতাম ধরে।
ছলনা আর মায়া জড়ানো,
ভুবনটাকে ঠিকই আমি চিনতাম
আমার মনের মানুষটা কে,
হারাতে কভু না দিতাম।
মানুষ যদিও হই তবে,
ভালোবাসায় ছিলো বুঝি খুট,
তাই বুঝি হারালাম তাকে,
আমার ভালোবাসা ছিলো ঝুট।
তবুও আমার পাগলা মনা,
কেঁদে বেড়ায় দিবা রাতি
কাঁদতে কাঁদতে যাবো আমি,
জ্বলবে শিহরে আগর বাতি।
ভালো যদি নাই বাসবে,
করোনি কেনো নিদারুণ প্রত্যাখ্যান
দুদিন কেঁদে ভুলে যেতাম,
অসহায় মনের থাকতনা উপাখ্যান।
ধরায় আমি মানুষ নই,
তাই বুঝি এই পরিহাস,
আমি প্রিয় ভালোবেসেছিলাম,
করিনি কোনো উপহাস।
অমানুষ আমি এই ধরায়,
ভালোবাসার যোগ্য নই,
নাইবা বোকার সর্গে,
আমি সুস্থ মানুষ নই।
আমার প্রেম ব্যর্থ আজ,
সফল মানুষের ছলনা।
পাগলে আবার ভালোবাসতে জানেনাকি,
করে শুধুই অবাস্তব কল্পনা।
জীবন আমার মানুষের নয়,
নেই কোনো লাজ শরম,
তাই বুঝি এতই ঘুরি,
ধুয়াশার পিছে, চোখে ভ্রম
ধিক আমায়, ধিক আমার প্রেম,
ভালোবাসার নাই কোনো অধিকার,
অমানুষ আমি, না হয় বোকা,
আমি মানুষের নই কোনো প্রকার।
৪)
মোঃ মাজহারুল ইসলাম
বুকের মাঝে অনকটা কষ্ট জমা,
সে কষ্টের নাই কোনো উপমা।
আমার বিরহে ভুবন কাঁদে,
পড়ে আছি মিছে প্রেমের ফাদে।
দেওয়ানা আমি তাই ভুলে যাই
আমি প্রেমের নয়, বিরহের গীত গাই।
আমার প্রেম অন্ধ ছিলো,
তাই না জেনেই তোমায় মনটা দিলো।
ধরায় আমি বড়ই বোকা,
তাই তো আমার হৃদয় ফাকা।
অভাগা আমি তাই চোখেও আসে না জল,
মনের গহীনে শুধুই রক্ত ঝরে, জমাট বাধা ছল
মনটা আমার বড়ই বেহায়া,
জড়ানো সেথায় তোমার মায়া।
তাই বারে বারে ফিরে আসে,
আজও যে সে সুধুই তোমায় ভালোবাসে।
মনন বনে ছোট্ট কুড়ে ঘরে,
ভাসছে সেথায় তোমার পরিসরে।
মনের আচমকা বাকে, প্রেমের মন্দিরে,
তোমায় পূজি প্রিয় দিবানিশি ধরে।
তবুও আমি হতভাগা, প্রেম বঞ্চিত,
সুধুই তোমার ছলনা আছে সঞ্চিত।
আমি প্রেম ভিখারি,
তাই আমি প্রেম যাচিবো শ্বাস আখেরি।
৫)
মাকাল ফল
মোঃ মাজহারুল ইসলাম
আর দু দশ জন প্রেমিকের মত আমি তোমার চন্দনা রুপের মোহে পড়িনি,
তোমার কোমল ওষ্ঠদ্বয়ে বিমোহিত হলেও সেটা ছিলো পার্থিব
তোমার বক্ষযুগল স্তম্ভের দিকে আমি কভু কু নজরে তাকাইনি,
আমার নজরে সেটা ছিল পৃথিবীর সুউচ্চ উদার গিরিশৃঙ্গ,
তোমার মাংশল নিতম্বের দিকে আমি আর দশ জন প্রেমিকের মত কামুক নজরে তাকাই নি।
কেনোনা আমি তোমার পার্থিব শরীল টাকে ভালোবাসিনি,
ভালোবেশেছিলাম তোমার ছলনাময়ী হৃদয় টাকে,
যার মুল্য আমি পেয়েগেছি,
ছলনার বিষাক্ত এক শোবল।
তোমার ঝুমুর ঝুমুর নুপুরের আওয়াজ আমায় আশক্ত করলেও সেটা খনিকের,
আমি ডুবেছিলাম তোমার গভীর নয়না ঝিলে।
তোমার গ্রীবা, বক্ষ, নাভীনিম্ন অঞ্চলের প্রতি আমার কোনো লালসাই ছিলো না,
ছিলো শুধুই পৌরুষত্বের কৌতুহল।
আমি তোমাকে নয় তোমার হৃদয়টাকে ভালোবেসেছিলাম,
তোমার হৃদয়টাকে নিয়ে সাজাতে চেয়েছিলাম রুপকথার তেপান্তর,
যেখানে দুটো হৃদয় নীল পাখি হয়ে উড়ে বেড়াবে।
গান গাইবে, জল কেলি করবে।
তুমি আমার ভালোবাসাকে বুঝলে না,
কেনোনা আমি তোমার হৃদয়কে বুঝতে ভুল করেছিলাম,
তোমার হৃদয়টা যে গিরগিটির মত রঙ পালটায় তা জানতাম না,
জানলে আর দশজন প্রেমিকের মত তোমাকে দেখতাম নগ্ন অপ্সরা রুপে।
যে হৃদয় তোমার হৃদয় কে ভালোবাসত সে মারা গেছে,
তার কবরে গজিয়ে উঠেছে ঘৃণা নামক এক মাকাল লতা,
যে লতায় ধরেছে লাল নীল মাকাল ফল,
যার ভেতরটা ঠিকই তোমার মত।
সপ্তদশ কবির কবি-পরিচিতি ও কবিতা :
কবি সোমা বিশ্বাস
কাব্যগ্রন্থ : রিক্ত হৃদয়ের আর্তনাদ
কবি-পরিচিতি :
কবি : সোমা বিশ্বাস
পিতা : দীপক কুমার বিশ্বাস
মাতা : রিনা বিশ্বাস
বর্তমান ঠিকানা : শ্রীরামপুর হুগলি
জন্ম স্থান : বর্ধমান
শিক্ষাগত যোগ্যতা : স্নাতকোত্তর
কাব্যগ্রন্থ : আবেগের ঝর্ণাধারা, সমাজ দর্পণ, হালিকাব্য সম্ভার
সম্পাদিত পত্রিকা : আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকা
পুরস্কার : চুনী কোটাল স্মৃতি সম্মান - ২০১৭
সিসৃক্ষু শত কন্ঠে শত কবি - ২০১৮
সেবাঞ্জলি সেবা সমিতি সাহিত্য সম্মান - ২০১৯
বিশ্ববঙ্গ বাংলা সাহিত্য উৎসব - ২০২১
Email - somabiswas713@gmail.com
কবিতা :
১)
যেদিন তোমার যোগ্য হবো
সোমা বিশ্বাস
সেদিন তোমার কাছে বন্ধুত্বের আবেদন নিয়ে যাবো
যেদিন তোমার যোগ্য হবো।
নিজের যোগ্যতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরবো।
তখন আমার একটা সরকারী চাকরী হবে,
ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, গাড়ি বাড়ি।
আসলে নিজের গুণ বলতে কিছু নেই আমার,
যা আছে সব তোমারই।
একদিন বিখ্যাত শিল্পী হবো কিংবা সেলিব্রিটি
সেদিন তোমার কাছে যাবো
বন্ধুত্বের আবেদন নিয়ে বন্ধু হওয়ার জন্য
সেদিন ও কী ফিরিয়ে নেবে মুখ?
ছাড়িয়ে নেবে হাত? সরিয়ে দেবে দূরে?
নাকি অপেক্ষা আর বিরহের তারে
প্রেমের সঙ্গীত বাজবে তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে
প্রেমের সুরে সুরে?
২)
আর্তনাদ
সোমা বিশ্বাস
আমি তোমার জন্য যেমন জীবন দিতে পারি
আমি তোমার জন্য জীবন নিয়েও নিতে পারি।
যেভাবে তোমার কাছে পাগলের মত ছুটে ছুটে যাই
ঠিক সেভাবেই তোমার কাছ থেকে শত মাইল দূরে
দুই চোখের আড়ালে চলে যেতে পারি।
যেভাবে বার বার ভালোবাসি বলে ডিস্টার্ব করতে পারি
ঠিক সেভাবেই একরাশ কষ্ট নিয়ে নিশ্চুপ হতেও পারি।
তবে তোমাকে ক্ষমা করতে মন চায় না।
কিছু কিছু ভুলের কোনো ক্ষমা হয় না।
৩)
প্রতিশ্রুতি
সোমা বিশ্বাস
ভালোবাসি, ভালোবাসতাম, ভালোবাসবো
আমার প্রতিশ্রুতি।
তবে শব্দটা আর স্বর পাবে না।
বোবা কান্নার নালিশ হবে না
নীরবে থাকবো তোমার।
ভালোবাসাবাসি ভাষা খুঁজে পাক
নীরব চোখের জলে।
প্রতিশ্রুতি স্পর্শ করুক
বন্ধু ডাকার ছলে।
ভালোবাসতাম ভালোবাসবো
নীরব অশ্রুজলে।
৪)
প্রতিজ্ঞা
সোমা বিশ্বাস
সেদিন আমি তোমার কাছে যাবো
যেদিন নিজেকে তোমার যোগ্য করে তুলবো।
তুমি ভালো না বাসলেও চলবে তখন
অন্ততঃ তোমার চোখে চোখ মেলাতে তো পারবো।
এখন না হয় তুমি দূরেই থাকো
কাছে এসো না।
কথা বলার ও প্রয়োজন নেই
দূর থেকে এড়িয়ে যেও।
মনে করো, আমি তোমার কেউ নই।
পৃথিবীতে আমি ছাড়াও অনেক বন্ধু পাবে
যারা তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসবে।
৫)
ভবিষ্যৎ বাণী
সোমা বিশ্বাস
একদিন তারাটা মিলিয়ে যাবে আকাশে, হয়ে যাবে পর।
একদিন পাখিটা গড়বে অন্য কারো নীড়, হয়ে যাবে অন্যের বর।
আর আমি? আমি ছিলাম আছি থাকবো - পাগল যাযাবর।
Comments
Post a Comment