মার্চ ব্লগজিন সংখ্যা - ছড়া সংখ্যা


আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকা 
 বিশ্ববঙ্গ বাংলা সাহিত্য একাদেমী অনুমোদিত 
Registration number - (BBSA/GM/132/2021) 
আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকার ওয়েব ম্যাগাজিন সংখ্যা 
ব্লগজিন : দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা : ছড়াক্কা সংখ্যা 

আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকার 
প্রকাশ তারিখ - ১ মার্চ ২০২২
মার্চ তৃতীয় সংখ্যা 
প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদিকা: সোমা বিশ্বাস 
উপদেষ্টা : সোমনাথ নাগ, তপন কুমার তপু, অরবিন্দ মাজী, অমল ভট্টাচার্য্য, শিবপদ মন্ডল 

প্রচ্ছদ অঙ্কনে : বিপ্লব সরকার 

সম্পাদকীয় :
আলোর দিশা সাহিত্য পত্রিকার ওয়েব ম্যাগাজিন সংখ্যা প্রকাশিত হলো। সকল কবি ও সাহিত্যিক ও পাঠক-পাঠিকা বন্ধুকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
                            - সোমা বিশ্বাস 


লেখা পাঠানোর ঠিকানা - aalordishasahityapotrika@gmail.com 
ওয়েবসাইট - aalordishasahityapotrika.blogspot.com

লেখার দায় লেখকের, সম্পাদকের নহে। 


কবিতা সূচী :
১) শীতের রূপকথা - বিপ্লব সরকার 
২) বক বউ - অঞ্জলি দে নন্দী, মম
৩) বসেছে ইস্কুল - রবি শঙ্কর মুখোপাধ্যায়
৪) অমূল্য সুখ - সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)
৫) পুজোর ছড়া - অচিন্ত্য কবিরাজ
৬) চ্যাং এর রাগ - অমল ভট্টাচার্য্য  
৭) টুনটুনি পাখি - প্রান্ত দত্ত
৮) শৈশববেলা - শাশ্বতী দেব
৯) ব্যাঙাচির সাজ - সোমা বিশ্বাস  


শীতের রূপকথা
বিপ্লব সরকার

দুর আকাশে মেঘের ফাঁকে চাঁদমামা ঐ হাসে,
মেঘ গুলো সব উড়ে যাচ্ছে ,কোথায় বনবাসে?
তারার মুখে মিটিমিটি মিচকে হাসির আবেশ,
চাঁদের বুড়ির চরকা কাটা হয়না কেনো শেষ?
শিশির পড়ে, শব্দই নেই ,ভোরের সবুজ ঘাসে;
শীতের মেয়ে সাতসকালেই কি করতে আসে?
নলেন গুড়ের গন্ধে ম ম, কাটছে না তার রেশ,
গাছের পাতায় সূর্যসোনা-আলোকিত মহাদেশ।

দিনরাত্রি সবাই এখন কেমন মজাক করে,
কেউ উড়ে যায় ইচ্ছেমত আর ফেরেনা ঘরে।
ছোটো আমি বড় একদিন হব সবার থেকে,
বহু দুরে ,ফিরব না আর যতই কাঁদো ডেকে।
রং ধরে লাল পশ্চিমে ঐ দিগন্তে কোন চরে,
সন্ধ্যা নামে আসছে বাউল একতারাটি ধরে।
বাইরে বাতাস জোতস্না দিয়ে পাতায় ছবি আঁকে,
পড়ব শুধু পড়ব কেন- রূপকথা আজ ডাকে।

বক বউ
অঞ্জলি দে নন্দী, মম

বক বউ রাঁধছে পুঁটি মাছের টক।
রান্না করা তার বড় শখ।
বক বর নিজের মনেই করছে বক বক।
আর কাশছে সে খক খক খক।
গিলছে জল - ঢোঁক ঢোঁক ঢোঁক।
রান্নার সুবাস পেয়ে মোরগ ডাকে
কোঁক কোঁকর কোঁক কোঁক......
লোভে ওর চোখ করছে চক চক।
তার ডাকে সাড়া দিয়ে আসে যত কাকে।
আর বেদম তারা ডাকে - কা কা কা......
পুঁটি মাছের টকে বক বউ দিল তেঁতুল, পাকা।
বকদের বাসা এই তেঁতুল গাছেরই শাখা।
রেঁধে বক বউ একাই টক করল ফাঁকা।
বক বর খুলে টকের ঢাকা,
দেখে একটুও আর নেই টক।
রেগেমেগে বলল বর বক,
বলি ও বউ! একাই তুই খেলি সব টক।
হেসে বলে বউ, কাশি যে বাড়ে খেলে টক।

বসেছে ইস্কুল 
         রবি শঙ্কর মুখোপাধ্যায় 

অনেক দিন পরে যে আজ 
বসেছে ইস্কুল! 
বই পত্তর কোথায় গেলো 
তাই তো হচ্ছে ভুল।

স্কুলে যেতে পারবো বলে 
হচ্ছে ভীষণ মজা, 
বড়িতে বসে এই ক'দিন 
পেলাম শুধুই সাজা।

বাড়ি যতই পড়ি না কো 
স্কুলের মজা নাই! 
স্কুল, শিক্ষক, সহপাঠীর 
যোগান কোথায় পাই?

মায়ের সাথে যখন আমি 
স্কুলের পথে ধাই, 
জানা -অজানা জিনিস গুলোর 
পরিচিতি পাই।

তাই তো বলি স্কুল গুলো 
ভীষণ খোলা চাই, 
না খুললে আমরা যে সব 
জাহান্নামে যাই। 


অমূল্য সুখ
সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

লাঠির আগায় কটা বেলুন নিয়ে দাঁড়ায় রামি,
রাতভর কেন খায় নি সে যে জানে অন্তর্যামী,
পায়ে পায়ে আজ সে পৌঁছায় পাড়ার ঠাকুর থানে,
বহু মানুষ আসে হেথা মনে মনে জানে।

বিক্রি করে টাকা কয়েক দেবীর কৃপায় পেলে,
ভাই আর মায়ের জন্য কোনমতে অন্ন মেলে,
দামী দামী জামা গায়ে ঘোরে আশেপাশে,
করুণ চোখে তাকায় রামি যদি কিনতে আসে।

ছেলের বায়নায় মা'টি বোঝায় বাজে খরচ এসব,
"বেলুন" "বেলুন" করে তুমি হয়েও না সরব,
ভালো ভালো খেলনা কিনে বোঝাই কর যে ঘর,
কিসের তরে কিনবে বেলুন ফাটতে নেই যে তার তর।

একই সাথে প্রাথমিকে পড়ে ঐ এক মেয়ে,
এল রামির কাছে সকল বেলুন কিনতে চেয়ে,
বেলুন পেড়ে হাতে ধরায় ছোট্ট মেয়ে রামি,
বিক্রির টাকা কটা যে আজ অল্প হলেও দামী।

পুজোর ছড়া
অচিন্ত্য কবিরাজ (দুবরাজপুর বীরভূম) 

টাক ডুমা ডুম ঢোলক বাজে
বাজছে কাঁসর ঘন্টা,
মা আসছেন সিংহে চেপে
উঠলো নেচে মনটা।
দুই পাশে তে কার্তিক গণেশ লক্ষ্মী সরস্বতী,
তাদের সাথে ইঁদুর পেঁচা
রাজহংস এবং ময়ূরাবতী ।
মাথার ওপর থাকেন যিনি
তিনি ভোলানাথ,
কৈলাসেতে থাকেন তিনি
তিনি ভূতনাথ।
আকাশেতে মেঘের রাজি
মাঠেতে কাশফুল,
আনন্দেতে তাই না দেখে
পাপাই সোনার হচ্ছে দিক ভুল।
নতুন পোশাক পড়ে সবাই
যাচ্ছে প্যান্ডেলে,
পাপাই সোনা এবার পুজোয়
যাবে ব্যান্ডেলে।
হঠাৎ তার চোখ আটকায়
ফুটপাতেরই ধারে
তারই মত একটি ছেলে
দোকানে কাজ করে।
ছেঁড়া জামা ছেঁড়া প্যান্ট
 তেল নাইকো চুলে,
এখন যে দুগ্গাপূজা
সে গিয়েছে ভুলে!
তাই না দেখে পাপাই সোনার
চোখ ছল ছল করে,
মায়ের কাছে বায়না ধরে
নতুন জামা দাও না ওকে কিনে।
নতুন জামা পেয়ে ছেলের
মন উঠেছে ভরে,
বললে সবাই এমন ছেলে
হোক সবারই ঘরে।

চ্যাং এর রাগ
অমল ভট্টাচার্য্য 

চ্যাং মাছের মা ব্যাঙ, 
ব্যাঙের নেই যে ঠ্যাং।
চ্যাং মাছ বাজায় ঢোল,
ব্যাঙ বলে হরিবোল। 

চ্যাং এর পিঠে যাচ্ছে ব্যাঙ, 
চাই যে তার চারটে ঠ্যাং।
খরগোশকে শুধায় ব্যাঙ, 
কোথায় পাবো চারটে ঠ্যাং ?
মরা ব্যাঙ খুঁজে বেড়াও,
তার ঠ্যাং লাগিয়ে নাও।

চ্যাং এর পিঠে হচ্ছে ব্যাথা, 
মায়ের সাথে বলছে না কথা।
হঠাৎ রেগে চ্যাং মাকে দিল ফেলে,
ব্যাঙ কেঁদে বলে, তুই নয়কো আমার ছেলে।

১৬/০৯/২০২১

 টুনটুনি পাখি
প্রান্ত দত্ত

কারিগর পাখি টুনটুনি
গাছের পাতায় বাসা বাঁধে,
দক্ষতার সাথে টুনটুনি
নিজের বাসা তৈরি করে।


অপকারী অনেক পোকামাকড়
খাদ্য হিসেবে টুনটুনি খায়,
বিভিন্ন রকম পোকামাকড়
আছে তার খাদ্য তালিকায়।


ছোট্ট আকারের পাখি
অপরূপ তার গাঁয়ে রঙ,
নানান দেশে রয়েছে
বিভিন্ন প্রজাতির টুনটুনি ধরণ।


কারিগরি টুনটুনি পাখি
অসাধারণ তীক্ষ্ণ তার গলা,
মিষ্টি মধুর কন্ঠে
ঘুম ভাঙ্গায় প্রভাত বেলা।

শৈশববেলা
শাশ্বতী   দেব

ছন্দে   ছন্দে   কর   খেলা,

কেটে  যায়  এভাবেই  শৈশববেলা ।

আধো  আধো  কথায়  প্রাণ  ভরিয়ে  দাও ,

ছোট্ট  হাত  দিয়ে মাটির  ঢেলা  বানাও।

দুষ্টু  মিষ্টি   হাসিতে  ভরে  যায়  মন,

রামধনুতে  দেখা  যায়  হাসিটি  যখন ।

বাতায়নের  বাইরে যখন  দেখি  তোমায় ,

ছোট্ট  আঙ্গুল  দিয়ে  তুমি  ব্যস্ত  খেলায় ।

ধীরে  ধীরে  কেটে  যায়  এমনই  শৈশববেলা ,

হও  বড়  তুমি  করতে  করতে  খেলাধূলা ।

ব্যাঙাচির সাজ
সোমা বিশ্বাস 

ঝিলমিল পুকুরে
       খুকি গেছে দুপুরে
দেখে সেথা ব্যাঙাচি
        সেজে এলো নুপূরে।


Comments

Popular posts from this blog

স্বপ্নভঙ্গ - সৌভিক দেবনাথ

মাটির শহর - সৌভিক দেবনাথ

অনুগ্রহ - সৌভিক দেবনাথ